পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর এক জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি, রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন নীতীশ কুমার। সেই অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল শপথের পর দিল্লি থেকে পাটনায় ফিরে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
জেডিইউ সূত্রের দাবি, দিল্লি সফর সেরে ফিরে আসার এক-দু’দিনের মধ্যেই নীতীশ কুমার পদত্যাগ করবেন এবং তারপরই বিহারে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যেই তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ ছেড়ে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সাংবিধানিক দিক থেকে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পথও অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে দলের এক নেতা জানিয়েছেন। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, ৯ এপ্রিল তিনি দিল্লি যাবেন এবং ১১ এপ্রিল পাটনায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।
যদিও তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি জেডিইউ নেতারা।আরও পড়ুন:
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেই নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় প্রবেশ তাঁর দলের জাতীয় সভাপতির চতুর্থ মেয়াদের সঙ্গেও মিলছে। গত মাসেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের জাতীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ মাসের শেষের দিকে পাটনায় দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতের কর্মসূচি ও কৌশল নিয়ে দিকনির্দেশ দিতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, সেই বৈঠক নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। নীতীশ কুমার যদি সত্যিই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন, তবে বিহারে বিজেপির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। কারণ রাজ্য বিধানসভায় বিজেপিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় দল। সে ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেখার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতীশ কুমারের জায়গা পূরণ করা সহজ হবে না। সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক এন কে চৌধুরীর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিহারের রাজনীতিতে তিনি একটি ভারসাম্য তৈরি করেছিলেন। আরজেডি এবং বিজেপির মতো বড় শক্তির মাঝেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন। ফলে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুরু থেকেই তাঁর সঙ্গে তুলনার মুখে পড়তে হবে।
এদিকে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উপযুক্ত সময়েই নাম প্রকাশ করা হবে এবং এনডিএ বিধায়ক দল তা অনুমোদন করবে। এরপরই নতুন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে, যখন তিনি হরনৌট কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিহার বিধানসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৯ সালে বারহ কেন্দ্র থেকে লোকসভায় জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯০ সালে ভি পি সিং সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে তিনি সমতা পার্টির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন। দুই বছর পর সেই দল বিজেপির সঙ্গে জোট গঠন করে। পরে ২০০৩ সালে সমতা পার্টি জনতা দল (ইউ)-এর সঙ্গে একীভূত হয় এবং আরজেডি-র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই জোরদার হয়। অবশেষে ২০০৫ সালে এনডিএ জোটের নেতৃত্বে বিহারের ক্ষমতায় আসে সেই জোট। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় রেল, সড়ক পরিবহন ও কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন নীতীশ কুমার। ২০০৫ সালে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ছয়বার লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ সালের স্বল্প সময় বাদ দিলে তারপর থেকেই তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন।