পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই দশকের ‘নীতীশ যুগের’ কি তবে অবসান হতে চলেছে? জল্পনা সত্যি করে সোমবার বিহারের বিধান পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। গত ২০ বছর ধরে বিহারের কুর্সি সামলানো এই দুঁদে রাজনীতিবিদের পরবর্তী গন্তব্য এখন দিল্লির সংসদ ভবন।
 
গত ১৬ মার্চ রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নীতীশ কুমার। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা বা বিধান পরিষদের কোনো সদস্য উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হলে, তাঁকে ১৪ দিনের মধ্যে আগের পদটি ত্যাগ করতে হয়।

নীতীশের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে সোমবার। ফলে আইনত আজই তিনি বিধান পরিষদের সদস্যপদ ছাড়েন।
 
রাজনৈতিক মহলে নীতীশ কুমার ‘পলটুরাম’ হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন কেউ দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারলেও, এনডিএ জোটকে দ্রুত নতুন নেতা বেছে নিতে হবে। জেডিইউ শিবিরের দাবি, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে নীতীশ রাজ্য রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করায় বিহারে তাঁর দলের আধিপত্য খর্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
 
বিহারের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে চর্চা। বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরির পাল্লা সবচেয়ে ভারী বলে মনে করা হচ্ছে। নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমার সম্প্রতি রাজনীতিতে পা রাখায় তাঁর নাম নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। তবে অভিজ্ঞতার অভাবে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।