পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৭৬ দিনের মাথায় প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফলাফল। এ বছর পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ। তবে ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই একটি নতুন ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা সংসদ। এবার থেকে প্রাপ্ত নম্বরে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা চাইলে ভবিষ্যতে আবার পরীক্ষায় বসে নম্বর বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

ফল ঘোষণার সময় সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার জানান, নতুন পদ্ধতিতে তৃতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের নম্বর মিলিয়ে ফল তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু অনেক পড়ুয়া পাশ করলেও নিজের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই নম্বর উন্নতির এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, কোনও পরীক্ষার্থী যদি মনে করেন তিনি আরও বেশি নম্বর পাওয়ার যোগ্য, তাহলে পরের বছরের পরীক্ষায় ফের অংশ নিতে পারবেন। তবে সেই ক্ষেত্রে চলতি বছরের নম্বরপত্র জমা দিতে হবে সংসদের কাছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনও ছাত্র বা ছাত্রী যদি ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪০০ পেয়ে থাকেন, কিন্তু তাঁর আশা ছিল ৪৫০ নম্বর পাওয়ার, তাহলে তিনি পরবর্তী বছরে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে নতুন ফল গ্রহণ করতে হলে আগের নম্বরপত্র বাতিল করতে হবে। এই নতুন নিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র নম্বর বাড়ানোর আশায় একজন পড়ুয়া আদৌ কি একটি সম্পূর্ণ বছর অপেক্ষা করতে চাইবেন? কারণ সেই সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চশিক্ষা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এক বছর পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পার্থ কর্মকার বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
তবে নতুন সুযোগ চালু হয়েছে এবং এ নিয়ে আরও কিছু প্রস্তাব সংসদের কাছে এসেছে। আগামী দিনে সেগুলি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, যারা আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করতে চান না, তাঁদের জন্য পুনর্মূল্যায়ন ও খাতা পুনরীক্ষণের সুযোগও থাকছে। সাধারণ এবং জরুরি দুই ধরনের পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। জরুরি ভিত্তিতে খাতা পুনর্মূল্যায়ন ও পুনরীক্ষণের আবেদন করা যাবে ১৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত। আর সাধারণ পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ চলবে ২৮ মে রাত ১২টা পর্যন্ত। আবেদন ফি অনলাইনেও জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদ।