আর জি কর হাসপাতালের চিকিৎসক নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছেন। আর সেই সিদ্ধান্তের পরই সামনে এল একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ।

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতিতার মা দাবি করেন, ঘটনার পর তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন পুলিশ কর্তারা শুধু তথ্য গোপনই করেননি, বরং টাকার প্রলোভনও দেখিয়েছিলেন।

অভয়ার মায়ের কথায়, “এই আইপিএস অফিসাররা সেমিনার রুমে ছিলেন। ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে মিথ্যে কথা বলেছেন। আর অভিষেক গুপ্তা আমার মেয়ের মৃতদেহের সামনেই ওর বাবার হাতে টাকা ধরাতে এসেছিলেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, “আমাদের বলা হয়েছিল, এসব বাইরে বললে মেয়ের বিচার আর পাব না।

জোর করে একটা ভিডিওও করানো হয়েছিল।”

নির্যাতিতার মা জানান, ঘটনার পর চার দিন ধরে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। তাঁর কথায়, “ভয়ে কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু পরে মনে হয়েছে, যদি সেদিন মুখ না খুলতাম, তা হলে কোনও দিন সত্যিটা সামনে আসত না।”
এদিন তিনি অন্য নির্যাতিত পরিবারের প্রতিও বার্তা দেন।

বলেন, “টাকার কাছে মাথা নত করবেন না। প্রতিবাদ করতে শিখুন।”

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় শুধু দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ নয়, টাকা দেওয়ার চেষ্টা, ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। এমনকী তৎকালীন পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কোনও মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তাদের যোগাযোগ ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে প্রাক্তন নগরপাল বিনীত গোয়েল , তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে।