পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল পাশ করানোর উদ্দেশ্যে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। ইতিমধ্যেই লোকসভায় সেই বিল পেশ করা হয়েছে। পাশাপাশি লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও সামনে এনেছে কেন্দ্র। এই দুই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যসভার আসন সংখ্যাও বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে কী ভিত্তিতে লোকসভার আসন বাড়ানো হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।

সরকারের একটি সূত্রের দাবি, দুই হাজার এগারোর জনগণনার তথ্য ধরে আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেই সূত্রে আসন বাড়ানো হলে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। কারণ, ১৯৭১ এর পর থেকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তুলনায় দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সেই হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়নি। ফলে নতুন হিসাব অনুযায়ী আসন বণ্টনে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সরকারের আরেকটি সূত্র বলছে, এই বিতর্ক এড়াতে বর্তমান আসন সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই প্রায় অর্ধেক হারে আসন বাড়ানোর একটি প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে এখন যত আসন রয়েছে, তার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

এই হিসাব অনুযায়ী লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি আসন থাকবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য এবং বাকি ৮১৫টি আসন থাকবে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভায় ৪২ জন সাংসদ নির্বাচিত হন। যদি পঞ্চাশ শতাংশ হারে আসন বৃদ্ধি হয়, তবে বাংলায় লোকসভার আসন সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬২ বা ৬৩টি হতে পারে।

লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যগুলির বিধানসভা আসন সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই মুহূর্তে গোটা দেশে বিধানসভা আসনের মোট সংখ্যা ৪ হাজার ১২৩। সেটিকে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৬ হাজার ১৮৫-এ নিয়ে যাওয়ার ভাবনা চলছে।

সেই হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন সংখ্যাও একই অনুপাতে বাড়তে পারে। বর্তমানে রাজ্যে বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪। পঞ্চাশ শতাংশ বৃদ্ধি হলে আরও ১৪৭টি আসন যোগ হতে পারে। ফলে মোট আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪৪১।

কেন্দ্রের লক্ষ্য, দুই হাজার ঊনত্রিশ সালের মধ্যেই এই আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা। সেই ক্ষেত্রে ২৯৪ আসনের ভিত্তিতে রাজ্যে এটিই হতে পারে শেষ বিধানসভা নির্বাচন। দুই হাজার একত্রিশ সালের নির্বাচন থেকে নতুন আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই ভোটগ্রহণ হতে পারে।