পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কিছুদিন আগেই বিহারের রাজধানী পাটনায় জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যার ওরফে ফয়সাল খানের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় পড়েছিল। সেই আলোচিত ভাঙচুরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত প্রিন্স যাদব বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। এবার সেই অভিযুক্ত যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেল থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে আটক করেছে নেপাল পুলিশ।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, মৃত প্রিন্স যাদব খান স্যারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত জ্ঞান বিন্দু অ্যাকাডেমির পরিচালক রৌশন আনন্দের ভাই। নেপাল পুলিশ তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। জনপ্রিয় ইউটিউবার ফয়সাল খান, যিনি খান স্যার নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত, তাঁর কোচিং সেন্টার খান গ্লোবাল স্টাডিজ বা কেজিএস-এ সম্প্রতি হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে গুলি চালানোর মতো ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার পর গ্রেফতারি এড়াতে প্রিন্স যাদব বিহার ছেড়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
এখন সেই নেপালের হোটেল থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হলো।আরও পড়ুন:
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যদিও আটক হওয়া পাঁচজনের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, প্রিন্স যাদব এর এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে কোনো গভীর অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে। এদিকে, এই ঘটনার পরেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পাটনা পুলিশ খান স্যারের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
আরও পড়ুন:
প্রিন্স যাদব রৌশন আনন্দের ভাই হওয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে বিহারে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২ জুন ইনস্টিটিউটের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় খান স্যার এবং তাঁর দুজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীর নাম উল্লেখ করে পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করার পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়। তদন্তকারীরা রক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তারা দাবি করেছেন যে, কোচিং সেন্টারের বাইরে উত্তেজনা বাড়ায় জীবন রক্ষার্থে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, খান স্যার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো বেআইনি কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। পরে পাটনার একটি আদালত তাঁকে আগাম জামিন প্রদান করে। সেই মামলা নিয়ে বিতর্ক চলাকালীনই এবার রহস্যমৃত্যু হলো অভিযুক্ত প্রিন্স যাদব এর।