পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিহারের বেগুসরাই জেলায় শিউরে ওঠার মতো গণধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। চাকিয়া থানা এলাকায় এক ৩০ বছর বয়সী মহিলাকে অপহরণ করে পাঁচ জন মিলে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের চরম সীমা অতিক্রম করে অপরাধীরা ওই মহিলার গোপনাঙ্গে কাঠ, পাথর এবং কার্তুজ সদৃশ একটি বস্তু ঢুকিয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে চিকিৎসার সময় চিকিৎসকেরা উদ্ধার করেছেন। এই ঘটনায় বিহার জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ জুন রাতে এই মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে।
নির্যাতিতা মহিলা যখন বাড়ির বাইরে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বের হন, তখন পাঁচজন অভিযুক্ত আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয়। মুখ চেপে ধরে তাঁকে একটি নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে পাঁচজন মিলে পাশবিক অত্যাচার ও গণধর্ষণ চালায়। নির্যাতিতার দাবি, ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশে মামলা রুজু করা হয়।আরও পড়ুন:
জানা যায়, ১২ জুন প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও ওই মহিলা ক্রমাগত পেটে ও গোপনাঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন। গত ১৭ জুন শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পুনরায় জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। দ্বিতীয়বার ভর্তির পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষার সময় ওই মহিলার গোপনাঙ্গের ভেতর কিছু বস্তুর উপস্থিতি টের পান। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ওই মহিলার শরীর থেকে একটি পাথরের টুকরো, কাঠের টুকরো এবং একটি বন্দুকের তাজা কার্তুজের মতো দেখতে বস্তু উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন:
এই নৃশংস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বিহার পুলিশ প্রশাসন। বেগুসরাইয়ের পুলিশ সুপার মণীশ জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এবং চিকিৎসার তথ্য খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ‘মেডিকেল বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সব দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। পলাতক পাঁচ অভিযুক্তকে ধরার জন্য পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।"