দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘অপারেশন লোটাস’-এর মাধ্যমে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আক্রমণের মুখে বিজেপি। তবে এবার কর্ণাটকে উল্টো চিত্র দেখা গেল। বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিজেপি ও জেডিএসের একাধিক বিধায়কের ক্রস ভোটে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসন জিতে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিল কংগ্রেস।
সংখ্যার নিরিখে কংগ্রেসের পাওয়ার কথা ছিল ১৪০টি ভোট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটি পায় ১৫১ ভোট।

অর্থাৎ অতিরিক্ত ১১টি ভোট এসেছে বিজেপি ও জেডিএস শিবির থেকে। এর জেরে কংগ্রেসের পাঁচ প্রার্থীই জয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি-জেডিএস জোট। এমনকি জেডিএসের যে প্রার্থীর জয়ের কথা ছিল, তিনিও পরাজিত হয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচিত শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজে নেমেছেন।

বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার জেরে উদ্বেগে বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রস ভোটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি বি ওয়াই বিজয়েন্দ্রকে দিল্লিতে তলব করেছে। ২৩ জুন তাঁকে সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
দলবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

এদিকে, জেডিএস নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীও স্বীকার করেছেন, তাঁর দলের কয়েকজন বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। ফলে আগামী দিনে কর্ণাটকের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

২০২৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার অনেক আগেই বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙনের ইঙ্গিত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে কর্ণাটকই বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। সেখানে যদি সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়, তাহলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তা গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।