পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বর্তমান সভ্য সমাজকেও লজ্জায় ফেলে দেওয়ার মতো এক নারকীয় ও বর্বর ঘটনার সাক্ষী হলো ছত্তীসগঢ়ের কোরিয়া জেলা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এক ব্যক্তি তাঁর নিজের স্ত্রীর হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে চরম মারধর করার পর কাঁচি দিয়ে চুল কেটে সম্পূর্ণ ন্যাড়া করে দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, জনসমক্ষে ওই মহিলার মুখে কালো রঙের তরল মাখিয়ে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক তাঁকে মূত্র পান করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস অত্যাচারের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুন:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে, এক মহিলার হাত ও পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা রয়েছে এবং এক ব্যক্তি তাঁকে অনবরত চড় মারছে ও চুল ধরে টানছে। একই সাথে তাঁর পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই মহিলাকে প্রকাশ্য রাস্তায় বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং ওই ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দিচ্ছে। এরপর সে অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতে কালো রঙের তরল নিয়ে ওই মহিলার পুরো মুখে লেপে দিচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পৈশাচিক নির্যাতনের মাঝেই ওই অসহায় মহিলাকে জোর করে মূত্র পান করতে বাধ্য করা হয়।আরও পড়ুন:
দৈনিক ভাস্কর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতি ২০০৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের সন্তানও রয়েছে। তবে গত কিছু সময় ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছিল এবং ওই মহিলা তাঁর স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে পাণ্ডোপাহারা নামক একটি এলাকায় বসবাস করছিলেন। ভিডিওতে অভিযুক্ত স্বামীকে চিৎকার করে বলতে শোনা গেছে, তাঁর স্ত্রী সন্তানদের ফেলে রেখে অন্য এক ব্যক্তির সাথে লিভ-ইন করছিলেন। স্বামীর দাবি, ওই মহিলা প্রথমে তাঁর ভাসুর এবং পরবর্তীতে নিজের এক ভাইপোর সাথে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই আক্রোশ থেকেই সে স্ত্রীকে ধরে এনে এই চরম অবমাননাকর ও অমানবিক শাস্তি দেয়।