পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কে সেরা, এই নিয়ে বারবার তুলনা উঠে আসে। কারও চোখে লিওনেল মেসি, কেউ আবার এগিয়ে রাখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। সত্যি বলতে কী, দুই তারকার মধ্যে তুলনা হয় না। পরিংসখ্যানের বিচারে রোনাল্ডোকে অনেকটাই পেছনে ফেলবেন মেসি। মুকুটে একটা বিশ্বকাপ, একবার রানার্স। আর রোনাল্ডো? একটা ইউরো ছাড়া আর কিছুই নেই। জীবনের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন দুই তারকা। প্রথম ম্যাচে সেখানেও মেসির ধারে কাছে পৌঁছতে পারলেন না রোনাল্ডো। তাঁর ব্যর্থতায় ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দুর্বল ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধেও আটকে গেল পর্তুগাল। ম্যাচের ফল ১-১।


চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক চমক দিয়ে চলেছে ছোট দলগুলি। মরক্কো, মিশর, কেপ ভার্দে, সউদি আরবের মতো দেশগুলিকে দেখে হয়তো উদ্বুদ্ধ হয়েছিল কঙ্গো। না হলে পর্তুগালের মতো দলের বিরুদ্ধে এইরকম অনুপ্রেরণামূলক ফুটবল উপহার দেবে কী করে? বিশ্বকাপে নিজেদের শুধু প্রথম গোলই নয়, স্মরণীয় ড্রয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টও পেয়ে গেল আফ্রিকার এই দেশটি। তাও আবার পর্তুগালের মতো দলের বিরুদ্ধে। 
এই ম্যাচ হওয়া উচিত ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। মেসির ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাতে ২৪ ঘণ্টাও সময় নেননি। মাইলস্টোনের ম্যাচে মেসি যেমন দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন, তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি রোনাল্ডো। ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই তাঁকে দেখা গেল দর্শকের ভূমিকায়। কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা তাঁকে এমনভাবে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন, প্রথমার্ধে মাত্র একবারই বিপক্ষের বক্সে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হয়নি ফলাফল এমন হবে।
ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল পর্তুগাল। ৬ মিনিটের মধ্যে এগিয়েও যায়। বাঁদিক থেকে পেড্রো নেতো সেন্টার করেছিলেন। নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জোয়াও নেভেস। এরপর মনে হচ্ছিল কঙ্গোকে হয়তো ছিঁড়ে খাবে পর্তুগাল। কিন্তু কোথায় কী! প্রথমার্ধের বাকি সময় আক্রমণভাগ চূড়ান্ত ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার দায় ছন্নছাড়া মাঝমাঠের। আক্রমণভাবে বলই সাপ্লাই হচ্ছিল না। ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, মেন্ডেজ, নেভেসদের নিয়ে গড়া মাঝমাঠ চূড়ান্ত ব্যর্থ।
পর্তুগালের ছন্নছাড়া ফুটবলের সৌজন্যে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে সমতা ফেরায় কঙ্গো।
বাঁদিক থেকে ভেসে আসা সেন্টারে হেডে গোল করে ইতিহাসে ঢুকে যান কঙ্গোর ইওয়ান উইসা। তাঁর এই গোলটাই বিশ্বকাপের ইতিহাসে কঙ্গোর প্রথম গোল। তাও আবার সেটা পর্তুগালের মতো দলের বিরুদ্ধে। 
কঙ্গোর মতো দলের কাছে পয়েন্ট হারাতে হবে? পর্তুগিজদের আত্মসম্মানে হয়তো আঘাত করেছিল। গোলের জন্য বিরতির পর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন নেভেসরা। আক্রমণে ধার বাড়লেও ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে কঙ্গোর গোল লক্ষ্য করে গোটা ছয়েক শট নিলেও একটাতেও লক্ষ্যভেদ হয়নি। অ্যারন ওয়ান,বিসাকারা রক্ষণ এতটাই সংগঠিত করে রেখেছিলেন, বক্সে ঢুকতেই পারেননি রোনাল্ডোরা। গোটা ম্যাচে রোনাল্ডোর পারফরমেন্স? মাত্র ২৫ বার বলে টাচ। বাধ্য হয়ে ৮০ মিনিটের মাথায় তাঁকে তুলে নেন কোট রবার্তো মার্টিনেজ। মেসির মতো ‘শেষের কবিতা’র শুরুটা ভালো হল না সিআর সেভেনের।