পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার রাজ্য সরকারের নির্দেশকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলা দায়ের করেছে বামপন্থী সমর্থিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ, রাজ্যের মুখ্যসচিবের এমন বিজ্ঞপ্তি জারির আদৌ এক্তিয়ার আছে কি না, তা হলফনামা দিয়ে শুক্রবার জানাতে হবে রাজ্যকে।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন আদালত জানতে চায়, রাজ্যের মুখ্যসচিবের এমন নির্দেশ জারি করার প্রশাসনিক ক্ষমতা আদৌ রয়েছে কি না। এ বিষয়ে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। মামলাকারী সংগঠনের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্তি দেন, সারা বছর নানা ধরনের দিবস পালিত হয়, কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয় না। যোগ দিবস এর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।আরও পড়ুন:
বিকাশরঞ্জন আদালতে জানান, যোগের জন্য রাজ্যের বিষ্টু ঘোষের নাম আমরা জানি। তাঁকে জাপানেও আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি বলেন, এটা বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটা তো ভালো। রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়, কোনও সংগঠন কর্মসূচিতে যুক্ত না হতে চাইলে, তারা আলাদা করে মামলা করুক। গত বছর অন্ধ্রপ্রদেশে ৩ কোটি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এ বার আমরা রেকর্ড করতে চাই। যা শুনে বিচারপতি বলেন, এমন অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা কাম্য নয়। শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।আরও পড়ুন:
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও। সেই উপলক্ষে রাজ্যের সব সরকারি দপ্তরে সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে পৌনে আটটা পর্যন্ত যোগব্যায়াম কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরি এবং সাম্মানিকভিত্তিক কর্মী-সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। কর্মীরা নিজ নিজ দপ্তর, আবাসন অথবা নির্দিষ্ট অনুমতি সাপেক্ষে রেড রোড কিংবা মিলন মেলার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে এই অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের বক্তব্য, যোগ দিবস পালন করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ স্বেচ্ছার ব্যাপার হওয়া উচিত। সেই কারণেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।