পুবের কলম, কলকাতা: হাওড়া শহরের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলাহাটের হকারদের পুলিশি উচ্ছেদ অভিযান থেকে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষাকবচ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। রাস্তা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পুলিশ যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাতে এখনই হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে আদালত।
আরও পড়ুন:
পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ এনে এবং ব্যবসা সচল রাখতে উচ্ছেদ অভিযানের ওপর স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘হাওড়া হকার্স সমিতি’। কিন্তু বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাস্তা ও ফুটপাত সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে হকাররা পণ্য বিক্রি করবেন এবং সেটাকেই জীবিকা অর্জনের মৌলিক অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারেন না।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করেন, এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর জন্য সব পক্ষের হলফনামা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সেই কারণে তিনি মামলাকারী হকার্স সমিতির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ‘অ্যাফিডেভিট ইন অপজিশন’ বা আপত্তিপত্র দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে হকার্স সমিতি তার পালটা জবাব দিতে পারবে।আরও পড়ুন:
আদালতে হকারদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, হকার্স ভেন্ডিং অ্যাক্ট অনুযায়ী হকারদের এভাবে পুরোপুরি উচ্ছেদ করা যায় না। মঙ্গলাহাটের মতো শতাব্দীপ্রাচীন একটি বাজার সপ্তাহে মাত্র দু-দিন রাস্তার ওপর বসে। এর ওপর নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু উচ্ছেদ নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। অথচ হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ হকারদের উচ্ছেদ করার আগে কোনো আগাম আইনি নোটিশ পর্যন্ত দেয়নি।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী সূর্যনীল দাস আদালতে জানান, রাস্তাঘাট পরিষ্কার এবং সচল রাখা পুলিশের প্রধান কর্তব্য। এই বিশাল হাট বসার কারণে সমগ্র হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন অঞ্চলের মূল সড়কগুলি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাওড়া স্টেশনগামী বহু সাধারণ যাত্রীও প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছেন।