পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকা খুনের ঘটনার পর যে ভয়াবহ অশান্তি এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছিল, তার বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু করল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই পুলিশের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এক যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় রাতভর তল্লাশি চালিয়ে আজ সকালে আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই ভয়াবহ তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মোট অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০।
গত বুধবারই এই বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশান্তির বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই থেকে বারুইপুরের এক বারো বছরের কিশোরী নিখোঁজ ছিল। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই গোটা এলাকা আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে জনতা। স্রেফ সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং রাস্তা অবরোধ করে দিনভর চলে বিক্ষোভের আগুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আসরে নামতে হয়। এর মাঝেই পুলিশের এনকাউন্টারে এই কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাসের নিহত হওয়ার খবর সামনে আসে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুলিশের গুলিতে প্রভাসের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা মা কেউই বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখাননি, বরং তার কৃতকর্মকেই দায়ী করেছেন।
গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারই তিনি টেলিফোনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলে ন্যায়বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার খোদ বারুইপুর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। এই পরিকল্পিত তাণ্ডবের নেপথ্যে বিরোধীদের প্ররোচনা এবং সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কড়া ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্বাচনে হেরে যাওয়া যে সমস্ত 'অতৃপ্ত আত্মা' আড়ালে থেকে এই হিংসায় উস্কানি দিয়েছে, তাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। ইতিমধ্যেই ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে প্রায় ২০০ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।