পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যোগীরাজ্যের ধাঁচে এবার বাংলাতেও এনকাউন্টার হয়েছে। বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের এই চরম পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি একপ্রকার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন খোদ অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরাও। প্রভাসের স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী এই জঘন্য অপরাধ করতেই পারে, তাই তার এই পরিণতি প্রাপ্য ছিল।
কী বলছেন অভিযুক্তের স্ত্রী ও মা?
বুধবার সকালে পুলিশের তরফ থেকে প্রভাসের মৃত্যুর খবর তার বাড়িতে পৌঁছয়। সেই খবর পেয়ে কান্নাকাটি তো দূর, বরং স্বামীর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন প্রভাসের স্ত্রী। তিনি অকপটে বলেন, "ও বরাবরই নোংরা মানসিকতার। তাই এই কাজ ও করেনি, এমনটা আমি বলতে পারব না। ও সব কিছুই করতে পারে।"
আরও পড়ুন:
তিনি আরও জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর নানাভাবে অত্যাচার করত প্রভাস, তা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে তিনি সংসার করছিলেন। স্বামীর পরিণতি প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, "দোষ করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।"
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডলও ছেলের মৃত্যুতে শোকের বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রথমে তিনি ছেলের মৃতদেহ নিতেও অস্বীকার করেন এবং জানান যে, যা হয়েছে একদম ঠিক হয়েছে। তবে থানা থেকে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর পাঠানো হলে, পরিবারের অন্যান্যদের সম্মতিতে শেষ পর্যন্ত মা ও স্ত্রী দু'জনেই থানার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমেই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মূল অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুরে (যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল) নিয়ে যায় তদন্তকারী দল।
আরও পড়ুন:
পুলিশের দাবি, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আচমকা এক আধিকারিকের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় প্রভাস। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে পালটা গুলি চালায় পুলিশ। এই এনকাউন্টারে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রভাস। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।