পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। সোপিয়ান জেলায় টানা পাঁচ দিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযান এবং ৭টি গ্রাম জুড়ে ব্যাপক তল্লাশির পর অবশেষে সেনার গুলিতে খতম হল লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার জাকির গানাই। বুধবার ওই জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। গোয়েন্দাদের 'হিট লিস্টে' থাকা এই জঙ্গির মৃত্যু উপত্যকায় বিরাট সাফল্য হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ ও সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সোপিয়ান জেলার একটি ফলের বাগানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি ক্যামেরায় দু’জন জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে।

তারা ছিল জাকির এবং তার সঙ্গী লতিফ ভাট। এরপরই এই দুই জঙ্গিকে ধরতে কোমর বেঁধে মাঠে নামে যৌথ বাহিনী। গোটা এলাকার ৭টি গ্রাম ঘিরে ফেলে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি।
জঙ্গিরা যাতে রাতের অন্ধকারে কোনওভাবেই পালাতে না পারে, তার জন্য সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং গোটা এলাকায় প্রচুর আলোর ব্যবস্থা করা হয়। তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী এলাকার একটি ফলের বাগানে প্রবেশ করতেই আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা।
আত্মরক্ষার্থে পালটা জবাব দেয় সেনাও। শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই গুলির লড়াইয়ের পর অবশেষে জাকিরের মৃত্যু নিশ্চিত করে পুলিশ।
কে এই জাকির?
নিহত জাকির গানাই দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৪ সালে সে লস্কর-ই-তইবার মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। উপত্যকায় একাধিক নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে তার হাত ছিল। গোয়েন্দাদের হিট লিস্টে জাকির ‘এ++’ ক্যাটাগরির জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
জাকির নিকেশ হলেও তার সঙ্গী লতিফ ভাটের খোঁজে এখনও এলাকায় কড়া তল্লাশি জারি রয়েছে। লতিফও কুলগামের বাসিন্দা এবং জানা গিয়েছে, গত বছর সে ওই জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় জঙ্গি লতিফকেও খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।