পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অভিযোগ উঠেছিল একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত। ইউএপিএ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ ১০ বছর জেলও খেটেছেন। কিন্তু, এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ দিতে পারল না পুলিশ। অবশেষে ওড়িশার বাসিন্দা মুহাম্মদ আব্দুর রহমানকে বেকসুর খালাস করল কটকের একটি আদালত।  পুলিশের উদ্দেশ্যে আদালতের মন্তব্য, "প্রমাণের চরম অভাব রয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।"
মামলার বয়ান অনুযায়ী, কটক জেলার জগৎপুর থানার অন্তর্গত পশ্চিমকচ্ছা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান।

তিনি একটি মাদ্রাসা পরিচালিত করতেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি ও ওড়িশা পুলিশের একটি যৌথ দল আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, তিনি যুবকদের সন্ত্রাসবাদী করে তুলছিলেন এবং জঙ্গিমূলক কার্যকলাপের জন্য তাদের নিয়োগ করছিলেন। তবে, বিচার চলাকালীন তদন্তকারী আধিকারিক স্বীকার করেন যে, আব্দুর রহমানের পরিচালিত মাদ্রাসার কোনো ছাত্র আল-কায়েদা বা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন অথবা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনে যে যোগ দিয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও স্বীকার করেন, তদন্ত চলাকালীন রহমান নিজেও যে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সেরকম কোনো নথি, অস্ত্র, গোলাবারুদ বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। 
মামলায়  কটকের দায়রা জজ মানস রঞ্জন বারিকের আদালত রায় দিয়েছে যে, রহমান কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা আল-কায়েদা বা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন-এর মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। এবং পুলিশ সেই প্রমাণে ব্যর্থ  হয়েছে ।
তাছাড়া তাঁর ছাত্রদের নিয়েও কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি পুলিশ। এরপরেই ইউএপিএ-র ১৬, ২০ এবং ৩৮ ধারার অধীনে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেন বিচারক ।  আদালত একইভাবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারার অধীনে আনা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৩৫(১) ধারা-এর অধীনে ইউএপিএ-র ১৬, ১৭, ১৮, ১৮-বি, ২০, ২১, ৩৮, এবং ৪০ এবং আইপিসি-র ১২৪-এ- ধারার অধীনে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করে আদালত।
বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে, অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
উল্লেখ্য,আব্দুর রহমানের সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ষড়যন্ত্র ও নিয়োগ সংক্রান্ত ইউএপিএ-র ১৮ এবং ১৮-বি ধারায় তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
তাকে সাত বছর পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি ইতিমধ্যে সেই দণ্ড ভোগ করেছেন।
দিল্লির মামলার সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও, ২০১৫ সালে দায়ের করা ওড়িশার পৃথক ইউএপিএ মামলায় আব্দুর রহমান জেলে ছিলেন।২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর, ওড়িশা হাইকোর্ট তার জামিনের আবেদন খারিজ করার পাশাপাশি আদালতকে মামলার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
আরেকটি ইউএপিএ মামলায় বিষ্টুপুর পুলিশ  ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত বছর সেই মামলার বিচার হয়।জামশেদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কাটকি এবং তার দুই সহযোগী অভিযুক্তকে খালাস দেন। আদালত এই মর্মে রায় দেয় যে, সরকার পক্ষ আল-কায়েদার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইউএপিএ-এর অধীনে উপস্থাপিত প্রমাণ অপর্যাপ্ত বলে গণ্য হয়েছে। ফলে ১০ বছর জেলে থাকতে হল আব্দুর রহমানকে।