০১ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেন ‘সন্ত্রাসী’ ইহুদি মন্ত্রী

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সদ্য ক্ষমতায় এসেছে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘উগ্র ডানপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ সরকার। আর ক্ষমতায় এসেই মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসায় প্রবেশ করেছেন ইহুদি মন্ত্রিসভার ‘সন্ত্রাসী’ মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় নিরাপত্তা মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বেন। মঙ্গলবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তিনি বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা এমন ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

আরও পড়ুন: পবিত্র রমযানে আল-আকসায় বিধিনিষেধের পথে ইসরাইল

বেন-গভিরকে মঙ্গলবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আল আকসা পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। বেন-গভির তার মুখপাত্র দ্বারা প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সরকার হামাসের হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’ হামাস অবশ্য আগেই বেনের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল ফিলিস্তিনিদের। এদিকে, ইসরাইলের বিরোধী-দলীয় নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, বেন-গভিরের এই ধরনের সফর সহিংসতার জন্ম দেবে। আল-আকসা কম্পাউন্ডে ইহুদি মন্ত্রী বেনের প্রবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনের বিদেশমন্ত্রক বলেছে, ‘এটি নজিরবিহীন উসকানি যা সংঘাতের জন্ম দেবে।’

আরও পড়ুন: দুর্নীতি ঠেকাতে আলবেনিয়ায় এআই মন্ত্রী নিয়োগ

 

আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ সিনহার আত্মসমর্পণ

গত সপ্তাহে বেন-গভির ইসরাইলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে একটি নতুন সরকারের অংশ হিসাবে শপথ নেন। এই সরকারে রয়েছে উগ্র ডানপন্থী এবং যায়নবাদী দলগুলো। মক্কা এবং মদিনার পরে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে আকসা শুধু মুসলিমদের প্রার্থনার জন্য অনুমোদিত। ইসরাইলি উগ্র-ডানপন্থীরা এটি পরিবর্তন করার এবং সাইটে ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে যে, এটি অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কারণ অতি-ডানপন্থী ইসরাইলিরা আল-আকসা মসজিদের অবশিষ্টাংশের ওপর একটি ইহুদি মন্দির নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানোয়া বলেছেন, ‘আল-আকসা মসজিদে যে কোনও ধরনের উত্তেজনার জন্য দখলদার সরকার দায়ী হবে।’

 

উল্লেখ্য, বেন-গভির বরাবরই ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে বৈষম্যমূলক মতামত পোষণ করেন এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার আহ্বান জানান। তিনি এর আগেও বহুবার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি দখলদারদের সঙ্গে যোগ দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। গত নভেম্বরে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সতর্ক করে বলেছিলেন, বেন-গভিরের মতামত নিয়ে পুরো বিশ্ব চিন্তিত। সম্প্রতি, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হানাদারদের আক্রমণের প্রবণতা  বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সামরিক অভিযান ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে যায়নবাদী বাহিনী।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: দুবাই, দোহা ও তেল আবিবে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেন ‘সন্ত্রাসী’ ইহুদি মন্ত্রী

আপডেট : ৩ জানুয়ারী ২০২৩, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সদ্য ক্ষমতায় এসেছে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘উগ্র ডানপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ সরকার। আর ক্ষমতায় এসেই মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসায় প্রবেশ করেছেন ইহুদি মন্ত্রিসভার ‘সন্ত্রাসী’ মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় নিরাপত্তা মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বেন। মঙ্গলবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তিনি বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা এমন ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

আরও পড়ুন: পবিত্র রমযানে আল-আকসায় বিধিনিষেধের পথে ইসরাইল

বেন-গভিরকে মঙ্গলবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আল আকসা পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। বেন-গভির তার মুখপাত্র দ্বারা প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সরকার হামাসের হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’ হামাস অবশ্য আগেই বেনের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল ফিলিস্তিনিদের। এদিকে, ইসরাইলের বিরোধী-দলীয় নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, বেন-গভিরের এই ধরনের সফর সহিংসতার জন্ম দেবে। আল-আকসা কম্পাউন্ডে ইহুদি মন্ত্রী বেনের প্রবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনের বিদেশমন্ত্রক বলেছে, ‘এটি নজিরবিহীন উসকানি যা সংঘাতের জন্ম দেবে।’

আরও পড়ুন: দুর্নীতি ঠেকাতে আলবেনিয়ায় এআই মন্ত্রী নিয়োগ

 

আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ সিনহার আত্মসমর্পণ

গত সপ্তাহে বেন-গভির ইসরাইলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে একটি নতুন সরকারের অংশ হিসাবে শপথ নেন। এই সরকারে রয়েছে উগ্র ডানপন্থী এবং যায়নবাদী দলগুলো। মক্কা এবং মদিনার পরে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে আকসা শুধু মুসলিমদের প্রার্থনার জন্য অনুমোদিত। ইসরাইলি উগ্র-ডানপন্থীরা এটি পরিবর্তন করার এবং সাইটে ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে যে, এটি অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কারণ অতি-ডানপন্থী ইসরাইলিরা আল-আকসা মসজিদের অবশিষ্টাংশের ওপর একটি ইহুদি মন্দির নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানোয়া বলেছেন, ‘আল-আকসা মসজিদে যে কোনও ধরনের উত্তেজনার জন্য দখলদার সরকার দায়ী হবে।’

 

উল্লেখ্য, বেন-গভির বরাবরই ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে বৈষম্যমূলক মতামত পোষণ করেন এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার আহ্বান জানান। তিনি এর আগেও বহুবার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি দখলদারদের সঙ্গে যোগ দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। গত নভেম্বরে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সতর্ক করে বলেছিলেন, বেন-গভিরের মতামত নিয়ে পুরো বিশ্ব চিন্তিত। সম্প্রতি, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হানাদারদের আক্রমণের প্রবণতা  বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সামরিক অভিযান ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে যায়নবাদী বাহিনী।