পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তাজমহল কি আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির? এই দাবি তুলে স্মৃতিসৌধ চত্বরে আদালত-নিযুক্ত বিশেষ দল দ্বারা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও পরিদর্শনের আর্জি জানিয়েছিল হিন্দু পক্ষ। কিন্তু আগ্রার নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এবার নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে কেন্দ্র সরকার এবং ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই)-কে নোটিশ জারি করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী হরি শঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়ালের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। ‘লর্ড শ্রী আগ্রেশ্বর মহাদেব নাগনাথেম্বর বিরাজমান’ দেবতাকে প্রধান পক্ষ করে এবং বেশ কয়েকজন ভক্তের তরফে এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
এই আইনি বিবাদের সূত্রপাত ২০১৯ সালে। সেই সময় মূল বাদীদের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, তাজমহল আসলে একটি প্রাচীন শিব মন্দির, যার নাম "তেজো মহালয়া"।
তাজমহল চত্বরের ভেতরে অনুসন্ধান, ছবি ও ভিডিওগ্রাফি করার জন্য একজন 'অ্যাডভোকেট কমিশনার' নিয়োগের দাবি জানিয়ে আগ্রার আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আগ্রার অ্যাডিশনাল সিভিল জাজ (সিনিয়র ডিভিশন) সেই আবেদন খারিজ করে দেন।আরও পড়ুন:
নিম্ন আদালতের যুক্তি ছিল, আবেদনকারীরা সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট 'গাটা নম্বর' প্রমাণ করার জন্য খসড়া বা খতিয়ানের মতো কোনো রাজস্ব রেকর্ড পেশ করতে পারেননি। পিটিশনে বর্ণিত ৭৭ বিঘা জমির সীমানা ও আয়তনের বিবরণ বিবাদীদের নথির সাথে মিলছিল না।
পরবর্তীকালে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিভিশন পিটিশনকেও আইনিভাবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে খারিজ করে দেন আগ্রার অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ।আরও পড়ুন:
নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে ‘আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং একপেশে’ বলে এলাহাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের দাবি, নিম্ন আদালত নিজের এক্তিয়ার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যে সমস্ত কারণ দেখিয়ে আবেদন খারিজ করা হয়েছে, তা অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের উদ্দেশ্যের সাথে একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়।
আরও পড়ুন:
পিটিশনে বলা হয়েছে, এই সম্পত্তির পরিচয় নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা বা বিতর্ক থাকতে পারে না, কারণ এটি একটি বিশ্বখ্যাত এবং সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত জাতীয় সৌধ। একই সাথে আবেদনকারীদের যুক্তি, তাজমহলের বাহ্যিক অবয়ব, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং এর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সিল হয়ে থাকা অংশগুলির আসল সত্য কেবল মৌখিক সাক্ষ্য বা বিবৃতির মাধ্যমে প্রমাণ করা অসম্ভব। তার জন্য আদালতের তত্ত্বাবধানে সরেজমিনে পরিদর্শন ও বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। হাইকোর্ট এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবেই এখন কেন্দ্র ও এএসআই-এর অবস্থান জানতে চেয়েছে।