পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ধর্মান্তর বিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্যে এই আইনের অধীনে একের পর এক ‘ভিত্তিহীন ও ভুয়ো’ এফআইআর দায়ের করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতি আব্দুল মইন এবং বিচারপতি প্রমোদ কুমার শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পুলিশ এবং অভিযোগকারীদের দ্বারা এই আইনের অপব্যবহারের একটি ‘উদ্বেগজনক ধারা’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বচারাচ জেলার এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই পর্যবেক্ষণ দেয় আদালত।
জানা যায়, ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর চেষ্টার মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। তবে মামলার তদন্তে নেমে আদালত দেখে, পুলিশের দাবি এবং খোদ ওই তরুণীর জবানবন্দি সম্পূর্ণ বিপরীত। তরুণী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ওই মুসলিম যুবকের সঙ্গে গত তিন বছর ধরে স্বেচ্ছায় ও সম্মতিতে সম্পর্কে রয়েছেন।আরও পড়ুন:
আদালত লক্ষ্য করেছে, তরুণীর জবানবন্দির পর তদন্তকারী অফিসার ধর্ষণের ধারাটি বাদ দিলেও রহস্যজনকভাবে অপহরণ এবং ধর্মান্তর চেষ্টার ধারাগুলো বহাল রেখেছেন।
আদালতের ভাষায় এটি একটি ‘অদ্ভুত মোড়’। ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, “তরুণীর স্পষ্ট জবানবন্দির পর এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সম্ভবত তদন্তকারী অফিসার কোনো ‘বাইরের চাপে’ প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছেন।”আরও পড়ুন:
আদালত কেবল পুলিশকে ভর্ৎসনা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং অভিযোগকারী ওই তরুণীর বাবাকেও আদালতে তলব করা হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার অপরাধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন বিচারপতিরা।