বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ফের পতন দেখা দিয়েছে। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস আগামী আগস্ট মাস থেকে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট কমে ৭১ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১১ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলেও গত সপ্তাহে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার দিকে নজর রেখেই বিনিয়োগকারীরা অবস্থান নিয়েছেন।
ওপেক প্লাসের সাম্প্রতিক বৈঠকে আগামী আগস্ট থেকে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও এক লক্ষ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগেও জুন ও জুলাই মাসে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জোটটি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধির এই লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার কারণে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার ও উৎপাদন—দুই ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক প্লাসের নতুন সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে তেল সরবরাহ ও রপ্তানি বাড়াচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, জুন মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর দৈনিক তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় রপ্তানি এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জুলাই মাসেও রাশিয়ার রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকবে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।