পুবের কলম ওয়েব: তামিলনাড়ুতে থলপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-এর রাজনৈতিক কৌশলের কাছে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছে বিরোধীরা। এই অবস্থায় গেরুয়া শিবির থেকে শুরু করে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মতো বিরোধী দলগুলি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল। রাজ্যের সর্বত্র বিরোধীদের ঘর ভাঙছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়- এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে একযোগে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।
অব্যাহত দলবদল ও শাসক দলের শক্তিবৃদ্ধি
তামিলনাড়ুর মসনদে বসার পর এখনও দু’মাসও পেরোয়নি, আর এর মধ্যেই রাজ্যজুড়ে হু হু করে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে বিজয়ের দল। রাজনৈতিক মহলের খবর, রাজ্যের একেবারে ব্লক স্তর থেকে শুরু করে জেলা ও শীর্ষস্তরের বহু নেতা এখন শাসক দলে যোগ দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে।
রাজ্যপালের দ্বারস্থ তিন বিরোধী দল
নেতা-কর্মীদের এই দলত্যাগের হিড়িকে একপ্রকার নিরুপায় হয়েই রাজভবনের শরণাপন্ন হয়েছে বিরোধীরা। ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং বিজেপি এই তিনটি দল আলাদা আলাদাভাবে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বিশ্বনাথ রাজেন্দ্র আরলেকরের কাছে গিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জোরালো অভিযোগটি তুলেছে ডিএমকে। তাদের দাবি, বর্তমান সরকার পুলিশ ও প্রশাসনের চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে।
বিরোধী দলের জয়ী জনপ্রতিনিধিদের ভয় দেখিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক দলবদল করানো হচ্ছে। বিরোধী নেতাদের সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং জেলের অন্দরে তাঁদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হচ্ছে। রাজ্যপালের কাছে অবিলম্বে বিজয়ের সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে তিনটি দলই। রাজ্যপাল তাদের অভিযোগ গ্রহণ করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে জোরালো আক্রমণের মুখে পালটা সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ও। বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাঁর পালটা দাবি, ক্ষমতায় আসার পরপরই তাঁর নবগঠিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার বিরাট চক্রান্ত হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর দলের অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে ভাঙানোর চেষ্টা করে ডিএমকে। এর জন্য ওই বিধায়কদের মাথাপিছু ৩৫ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগের ভিত্তিতেই জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।