পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের রাজধানী দিল্লিতে সরকারি জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিলেন দিল্লির উপরাজ্যপাল সর্দার টি. এস. সান্ধু। শুক্রবার দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন—দিল্লির বুকে কোনোভাবেই আর বেআইনি দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না। এই কাজের জন্য ড্রোন এবং রিয়েল-টাইম প্রযুক্তির মতো আধুনিক ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়ার জন্য ডিডিএ-কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ডিডিএ-র উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠকে উপরাজ্যপাল দিল্লির নগর উন্নয়ন এবং আইনপ্রয়োগকারী পদক্ষেপগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেন। তিনি আধিকারিকদের বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি জমির পার্সেল এবং বহুতলের ওপর সার্বক্ষণিক ও রিয়েল-টাইম নজরদারি চালাতে হবে, যাতে কোথাও কোনো বেআইনি দখল বা নির্মাণ শুরু হওয়া মাত্রই তা চিহ্নিত করে দ্রুত গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়।

বৈঠকে ডিডিএ-র কর্মকর্তারা উপরাজ্যপালকে জানান যে, বিগত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে এ যাবৎকাল ২৪১.৫১ একর সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি, উন্নয়নশীল এলাকাগুলি থেকে আরও ২৩৫.৯৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিডিএ-র ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধীনে ১৪টি ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’ এবং সার্ভে টিম প্রতিদিন মাঠে নেমে এই জমিগুলির তদারকি করছে।

বেআইনি দখল রুখতে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি এবং ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’-র সাথে যৌথভাবে পুরো ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি জুড়ে একটি মেগা ড্রোন সার্ভে চালাচ্ছে ডিডিএ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোট ১,৩৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১,১২২ বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চলের ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি সংবেদনশীল ‘ও-জোন’-এর জরিপ কাজ পুরোপুরি শেষ।