পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ হায়দরাবাদের পুরনো শহর এলাকার নূরিয়া সমবায় জুনিয়র কলেজে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা আন্দেলা শ্রীরামুলু যাদবের নেতৃত্বে একদল কর্মী কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে পড়ুয়াদের নথিপত্র দেখতে চাইলে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে যাদবের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন বিজেপি কর্মী কলেজে প্রবেশ করেন। সে সময় অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন না।

কলেজের কর্মীদের কাছে শিক্ষার্থীদের নথিপত্র দেখানোর দাবি জানানো হয় এবং বিশেষভাবে দুই পড়ুয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক পড়ুয়া বৈধ পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েই ভর্তি হয়েছে। পড়ুয়াদের তথ্য ব্যক্তিগত ও সংরক্ষিত হওয়ায় তা বিনা অনুমোদিত ব্যক্তিদের দেখানো সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।

আন্দেলা শ্রীরামুলু যাদবের অভিযোগ, বালাপুর এলাকার কয়েকজন রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারের সন্তান ওই কলেজে পড়াশোনা করছে। তাঁর দাবি, শুধু কয়েকজন নয়, আরও অনেক রোহিঙ্গা পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ করছে।

পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল কলেজটিকে সমর্থন করছে এবং অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের ভর্তি করাতে সহায়তা করছে। তবে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গাজীউদ্দিন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কলেজে কোনো বেআইনি কাজ হচ্ছে না এবং সকল পড়ুয়া নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ভর্তি হয়েছে। অভিযোগে তিনি আরও বলেন, কলেজে প্রবেশের পর ওই দল কর্মীদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে, ভিডিও করে এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে।

অধ্যক্ষ সন্তোষ নগর থানায় দায়ের করা অভিযোগে যাদব ও তাঁর সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে মজলিস বাঁচাও তেহরিক। দলের মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খানের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক চাপ বা ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।