পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে "বৈষম্যমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে" মসজিদ, দরগা সহ অন্যান্য মুসলিম ধর্মীয় স্থান ভাঙার কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ট্যাগ করে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই আবেদন জানান হায়দরাবাদের সাংসদ। এক্স-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন যে, রাজস্থানের সীমান্ত এলাকায় প্রশাসন বেছে বেছে মুসলিম উপাসনালয়গুলিকে নিশানা করছে। তিনি জানান, এআইএমআইএম-এর বিকানের জেলা সভাপতি শফি জামিল কাসমির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে বিকানেরে ৪টি মসজিদ এবং ফালোদি, জয়সলমের ও বারমেরে আরও ৯টি মসজিদ ও দরগা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ওয়াইসি তাঁর পোস্টে দাবি করেন, "আরও শতাধিক ধর্মীয় স্থানকে এই ধরণের উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর মিলেছে।

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই সমস্ত ধর্মীয় স্থান ভাঙার কাজকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। অথচ ওইসব এলাকার কোনো সাধারণ মানুষ কখনোই এই ধরণের কোনো দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন না। শুধুমাত্র মুসলিমদের উপাসনালয়গুলিকেই এখানে টার্গেট করা হচ্ছে।"

হায়দরাবাদের সাংসদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতে সরকারি আধিকারিকরা দাবি করেছিলেন যে এই সমস্ত ধর্মীয় কাঠামোর কয়েকটি গোচারণ ভূমির ওপর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষজন যখন নথিপত্র দেখিয়ে প্রমাণ করেন যে ওই জায়গাগুলি আসলে তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত সম্পত্তি, তখন প্রশাসন তাদের যুক্তি বদলে ফেলে।

এরপর প্রশাসনের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে, ওইসব ধর্মীয় স্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি বা অনুমোদনের অভাব রয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওয়াইসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "অমিত শাহজি, এই বৈষম্যমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।" রাজস্থানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে রাজস্থান সরকার বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।