সরকার গঠনের পর থেকেই মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে সক্রিয়তা দেখিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন করে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার পর ইতিমধ্যেই বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছতে শুরু করেছে। চলতি মাসে যাঁরা ফর্ম জমা দিয়েছেন, আগামী মাস থেকে তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এতদিন বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল।

নতুন সরকারের আমলে এই প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। যদিও সরকার কখনও এই ভাতা বন্ধের ইঙ্গিত দেয়নি। অবশেষে রাজ্য বাজেটে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতার পরিমাণ মাসিক ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া মাসিক ভাতাও ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে এই তিন শ্রেণির উপভোক্তারাই আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

শুধু প্রবীণ ও বিধবা নন, রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর মাস থেকে চালু হবে নতুন প্রকল্প ‘যুবশক্তি ভরসা’।

এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রকল্প অনুযায়ী, স্নাতক পাশ বেকারদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের মাসিক ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় এক লক্ষ টাকার কম এবং যাঁরা অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁরাই এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের দাবি, প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলা, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং কর্মহীন যুবকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে চলতি বাজেটে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক ঘোষণার মাধ্যমে বড় বার্তা দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।

অক্টোবর মাস থেকেই ‘যুবশক্তি ভরসা’ প্রকল্প কার্যকর হওয়ার কথা ঘোষণা হওয়ায় এখন সেই প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি ও অন্যান্য নির্দেশিকার দিকেই নজর রয়েছে রাজ্যের লক্ষাধিক বেকার