অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু প্রতীক্ষিত জয়ের দেখা পেল মিসর। দীর্ঘ ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার (২২ জুন) ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিল মিসর। কিন্তু আগের আটটি ম্যাচে একবারও জয়ের মুখ দেখেনি তারা।

অবশেষে নবম ম্যাচে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করলেন সালাহরা।

তবে ম্যাচের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না মিসরের জন্য। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে ফিন সারম্যানের গোলে এগিয়ে যায় ওশেনিয়া অঞ্চলের দলটি।

গোল হজম করার পর বেশ কয়েকবার সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি মিসর। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলের ব্যবধানে পিছিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয় আফ্রিকান প্রতিনিধিদের।

বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক মিসরকে দেখা যায় মাঠে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে চাপে ফেলে নিউজিল্যান্ডকে। তারই ফল আসে ৫৮তম মিনিটে।

মোস্তাফা জিকোর গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় মিসর।

সমতায় ফেরার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সালাহরা। ৬৭তম মিনিটে দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ নিজের স্বভাবসুলভ দক্ষতায় গোল করে মিসরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ত্রেজেগে তৃতীয় গোলটি করলে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

মাত্র ২৪ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মিসর। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

এই জয়ের ফলে গ্রুপের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল মিসর। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম জয় পাওয়ার আনন্দে ভাসছে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা। বহু বছরের হতাশা ও অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে বিজয়ের হাসি ফুটল মোহাম্মদ সালাহদের