পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরে উল্লাডাবরি এলাকায় তিস্তা সেতুর কাছে একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা মারলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বহু যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। উল্লাডাবরি এলাকায় একটি ট্রাকের সামনের চাকা বিকল হয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সজোরে ট্রাকটির পিছনে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল ও প্রশাসনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। গুরুতর আহতদের জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এবং কয়েকজনকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মৃতদের মধ্যে চার জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁদের নাম শুভঙ্কর শীল (৩২), পম্পা দাস সাহা (২৬), যমুনা রায় (৪৯) এবং সজল সরকার (২৬)। আরও এক জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩৯ জন আহতকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন পুরুষ, ১২ জন মহিলা এবং দুই শিশু। তিন বছরের এক শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ আধিকারিক সুবল ঘোষ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার মানুষ দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে রাস্তার অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে অ্যাম্বুল্যান্স এসে আহতদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান স্থানীয় বিধায়ক অনন্দদেব অধিকারী। তিনি বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের নার্সিং স্টাফ মনোয়ারা নৌরিন বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। অনেকেরই গুরুতর চোট ছিল। তাদের দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়। আহতদের বাঁচাতে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছি। তবে আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরপরই জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়।
এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”