উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বর্তমানে রাজ্যে বেড়েই চলেছে পথ দুর্ঘটনা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্তরে ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগই নয়, সড়ক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবার নজিরবিহীন ও অভিনব উদ্যোগ নিল জয়নগর থানার দাঁড়া বাপুলির চক এফপি স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা।

শুক্রবার স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। তারা সরাসরি রাস্তায় নেমে হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চালকদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে নিরাপদে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানায়।

পড়ুয়াদের এই ব্যতিক্রমী আচরণে অনেক বাইক আরোহীই থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হন। শিক্ষার্থীরা তাদের হাতে তুলে দেয় সচেতনতামূলক বার্তা এবং জানায়, হেলমেট শুধুমাত্র আইন মানার বিষয় নয়, এটি চালকের নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার এক রক্ষাকবচ। তারা সকলকে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, নির্দিষ্ট গতিসীমা বজায় রাখা এবং সর্বদা হেলমেট ব্যবহারের আহ্বান জানায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। খুদে পড়ুয়াদের কণ্ঠে নিরাপদ সড়কের বার্তা শুনে অনেকেই তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে হেলমেট ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।

শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— হেলমেট পরুন, জীবন বাঁচান, সচেতন হোন, নিরাপদে বাড়ি ফিরুন এবং একটি হেলমেটই হতে পারে জীবনের রক্ষাকবচ।

এদিন এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জয়নগর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কৃষ্ণেন্দু ঘোষ, দাঁড়া বাপুলির চক এফপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্ভু সাফুই সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হেলমেট ব্যবহার না করা। তাই ছোটদের মধ্যে এই সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পড়ুয়াদের এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মতে, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে।