পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সই জাল সংক্রান্ত মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবারই সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে হানা দিল সিআইডি। তবে এবার সম্পূর্ণ অন্য একটি মামলায়। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বড় চাপে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, ডিজে মন্তব্য মামলায় আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসভবনে পৌঁছন।
যদিও এদিন সেই সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তাঁর হাতে আইনি নোটিশ পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন সিআইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করার পর নিরাপত্তারক্ষীদের মাধ্যমে সাংসদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হন তাঁরা।আরও পড়ুন:
এদিকে, সিআইডি আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিষেকের বাড়ির সামনে ভিড় জমান তৃণমূল কর্মীরা। আধিকারিকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডাও শুরু হয়।
তৃণমূল কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, ঠিক কী কারণে সিআইডি আধিকারিকরা এখানে এসেছেন। সূত্রের খবর, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।আরও পড়ুন:
তিনি বলেছিলেন, যারা বাংলাকে বঞ্চিত করেছেন, লাইনে দাঁড় করিয়েছেন এবং আমাদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন, ৪ তারিখে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে হালকা করে একটু ডিজেও বাজবে। যারা বেশি লম্ফঝম্প করছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন যে আমাদের সৌজন্যতা দুর্বলতা নয়। এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে একুশের স্মৃতিকে টাটকা করতে চেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।আরও পড়ুন:
ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জিও জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। জানা যায়, ভোটের ফলপ্রকাশের পর বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার বিধাননগর সাইবার থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করে। পুলিশের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য, ফেসবুক ভিডিওর লিংক এবং অন্যান্য নথিপত্র সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য গোয়েন্দা শাখা। সেই সূত্র ধরেই এদিন অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছল সিআইডি।