বিশেষ  প্রতিবেদক :
স্বামীকে লকআপ থেকে ছিনিয়ে নিতে থানা ঘেরাও  ও  হামলার চেষ্টার অভিযোগ। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার  তৃণমূল নেতা তথা বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে ফলতা থানার পুলিশ।
তোলাবাজি সহ একগুচ্ছ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। গ্রেফতারির পর জাহাঙ্গীরকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ফলতার রাস্তায় ঘোরানো এবং কান ধরে উঠবস করানোর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।স্বামীর এই 'অপমান' এবং গ্রেফতারির প্রতিবাদেই গত দিন কয়েক আগে ফলতায় এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, এই কর্মসূচির মূল মাস্টারমাইন্ড বা আয়োজক ছিলেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেজিনা বিবি।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিবাদ মিছিল কেবল দেখানোর জন্য ছিল। রেজিনা বিবির আসল উদ্দেশ্য ছিল বিশাল জনতাকে ঢাল বানিয়ে ফলতা থানার লকআপে হানা দেওয়া এবং সেখান থেকে স্বামী জাহাঙ্গীর খানকে জোর করে খালাস করে নিয়ে যাওয়া।পরিকল্পনা মাফিক, গত কয়েকদিন আগে রেজিনা বিবির নেতৃত্বে কয়েক হাজার মহিলা, পুরুষ ও শিশুকে সামনে রেখে ফলতা থানা ঘেরাও করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টাও চলে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ২৫ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে।

গত বুধবার ফলতায় একটি জনকল্যাণ শিবিরে এসে এই থানা ঘেরাও এবং পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইনের ওপর হাত দিলে কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়া মাত্রই কোমর বেঁধে মাঠে নামে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। ফলতা জুড়ে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। একের পর এক গ্রেফতারির পর, অবশেষে মূল অভিযুক্ত রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার  করল  পুলিশ।
রেজিনা বিবির এই গ্রেফতারির পর ফলতা চত্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
  শনিবার  তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়   পুলিশ।
জাহাঙ্গির ছিলেন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। ভোটের আগে তিনি নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি ‘ঝুঁকবেন’ না। কিন্তু বিধানসভা ভোটে গোটা রাজ্যেই ভরাডুবি হয় তৃণমূলের। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের কথা ঘোষণা করে কমিশন। তার পরেই সেখানে ভোটের লড়াই থেকে সরে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। জানিয়ে দেন, তিনি লড়বেন না। ওই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।