অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের আবহে মুখ খুললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার রুডৌলি বিধানসভা কেন্দ্রের এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং সত্য সামনে আসবেই। তাঁর কথায়, “যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাকে কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

রামভক্তদের উদ্দেশে যোগী বলেন, “প্রভু রাম আমাদের মর্যাদা ও ধৈর্যের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জন্মভূমি ফিরে পেতে আমরা ৫০০ বছর অপেক্ষা করেছি।

তাই আর ১৫ দিন ধৈর্য ধরুন। তদন্ত শেষ হোক, সত্য নিজেই প্রকাশ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, কারও প্ররোচনায় বা উসকানিমূলক মন্তব্যে প্রভাবিত না হয়ে শান্ত থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কারও কাছে যদি কোনও তথ্য বা প্রমাণ থাকে, তাহলে তা সরাসরি এসআইটির হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে অযথা মন্তব্য না করারও পরামর্শ দেন তিনি।

নাম না করেই বিরোধীদের নিশানা করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “কিছু মানুষ অযোধ্যা এবং রাম মন্দিরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। যারা কখনও অযোধ্যার উন্নয়নের জন্য কিছু করেনি, তারাই আজ নানা মন্তব্য করছে। রামভক্তদের উচিত এই ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়া।”

সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকার হিসাব মিলছে না এবং এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রথমদিকে মন্দির ট্রাস্ট অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরে অভ্যন্তরীণ তদন্তে কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে।

এরপর ট্রাস্টের আবেদনের ভিত্তিতে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের এসআইটি গঠন করে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

ইতিমধ্যে মন্দিরের দুই কর্মচারীকে অযোধ্যা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। প্রাথমিক সূত্রের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।”