পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানের টাকা চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। এবার তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্তরা কেবল চুরির টাকা লুকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত ছিল না, বরং সেই টাকা দিয়ে মোটা অঙ্কের মুনাফা কামাতে তা সরাসরি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিল। চুরির টাকার উৎস ও গতিপথ খুঁজতে এবার তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে অযোধ্যা পুলিশ ও ফিন্যান্সিয়াল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের এবং তাদের আত্মীয়দের প্রায় ৩০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে জালিয়াতি করা ভুয়ো দানের রসিদও।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অন্যতম অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে জোরদার তল্লাশি চালায় পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশি জেরার মুখে অনুকল্প স্বীকার করেছে, সে এবং এই মামলার মূল হোতা বা প্রধান অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা দুজনে মিলে মন্দিরের চুরি যাওয়া টাকা শেয়ার বাজারে খাটিয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, অত্যন্ত চতুর পরিকল্পনার মাধ্যমে এই চক্র চালানো হচ্ছিল। অভিযুক্তরা চুরির টাকা প্রথমে নিজেদের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাত।

পরে সেই টাকা ঘুরিয়ে আবার নিজেদের অ্যাকাউন্টে এনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করত এবং চড়া সুদে সাধারণ মানুষকে ধার বা ঋণ হিসেবেও দিত। অনুকল্পের কাছ থেকে এ যাবৎ সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ২০.৩৯ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও আগের তল্লাশি মিলিয়ে মোট ১.৫ লাখ টাকা ক্যাশ, সোনার দুল ও পেনডেন্টসহ প্রচুর গয়না এবং অনুকল্পের বাবার নামে নথিভুক্ত একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বুধবার অন্য দুই সহ-অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্র এবং করুণেশ পাণ্ডের বাড়িতেও একই ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্তরা রাম মন্দিরের দান গণনার বর্তমান ব্যবস্থার লুপহোল বা ত্রুটিগুলিকে কাজে লাগিয়েছিল।

একবারে অনেক টাকা সরালে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা প্রতিদিন গণনা চলাকালীন অল্প অল্প করে নগদ টাকা সরিয়ে নিত। এরপর সেই টাকা কিছুদিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমিয়ে রেখে রিটার্ন বা লাভের আশায় ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে ঢালত। শেয়ার বাজারে মোট কত টাকা খাটানো হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করতে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ধৃতদের ট্রেডিং স্টেটমেন্ট, ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল পেমেন্টের সমস্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

২০২৪ সালে রাম মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে মন্দিরে আসা সমস্ত দানের ফিন্যান্সিয়াল ফরেনসিক অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিট। এই চুরির ঘটনায় স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নয়া ঘাট শাখার কর্মীদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে অযোধ্যা পুলিশ। কারণ, রাম মন্দিরের ক্যাশ গণনার দায়িত্ব সামলায় এসবিআই-এর এই শাখা এবং একটি আউটসোর্সড এজেন্সির কর্মীরা।