পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার ঠিক দু’মাসের মাথাতেই কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিরাপত্তা কমানো হল।  জানা গিয়েছে, এতদিন তিনি 'ওয়াই প্লাস'  ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেলেও এখন থেকে তাঁকে 'এক্স' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

সাংসদ থাকাকালীন অধীর চৌধুরী 'ওয়াই প্লাস' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন, যেখানে তাঁর পাহারায় সবসময়ে পাঁচজন জওয়ান মোতায়েন থাকতেন।

কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজের খাসতালুকেই পরাজয়ের সম্মুখীন হন তিনি। সাধারণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ পদ চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা কমার কথা থাকলেও সেই সময় তা হয়নি। বরং তিনি বহাল তবিয়তেই 'ওয়াই প্লাস' নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অধীর চৌধুরীর গোপন 'আঁতাঁত' রয়েছে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন না। যদিও সেই সময় এই অভিযোগকে একেবারেই পাত্তা দেননি প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর নিরাপত্তা কমার বদলে উলটে আরও বাড়ানো হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়।

তবে চব্বিশের লোকসভার পর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও হারের মুখ দেখেছেন অধীর চৌধুরী।

বর্তমানে তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেই। এই পরিস্থিতিতে সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁর নিরাপত্তা হ্রাস পাওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা।  শুক্রবার নিরাপত্তা কমানোর জল্পনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন এই সাংসদ জানিয়েছেন, তাঁর নিরাপত্তা আদৌ কমেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর কথায়, আগে যেমন কয়েকজন রক্ষী তাঁর সঙ্গে থাকতেন, এখনও তাঁরা আছেন, বাকিটা তাঁর জানা নেই। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে কখনও কারও কাছে নিরাপত্তার জন্য বলেননি। এর মাধ্যমে তিনি কার্যত পরিষ্কার করে দিলেন যে, নিরাপত্তা বাড়ানো বা কমানোর নেপথ্যে বিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও গোপন সম্পর্কের তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।