ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ জানাজা বৃহস্পতিবার পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোকাবহ এ আয়োজনে ইমামতি করেন শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রবীণ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ১০১ বছর বয়সী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি। খামেনির শেষ ইচ্ছা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকেই জানাজা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি।

শতবর্ষ পেরিয়েও তিনি শিয়া ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানিত। দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র নগরী কোমে অবস্থান করে তিনি শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা ও নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ইসলামি বিশ্বের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে তাঁদের কাছে অধ্যয়ন শেষে তিনি নিজেকে একজন বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক ও আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়েও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নীতির প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন এবং ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধ রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন।

শিয়া মুসলিমদের কাছে ‘মারজা’ বা অনুসরণীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃত্ব হিসেবে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ নূরি হামেদানির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তাঁর ইমামতিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়াকে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।