পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের আবহে এবার কড়া অবস্থান নিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে নতুন করে আমেরিকার কোনো সামরিক আঘাত এলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির কাছে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে, ইরানে যেকোনো হামলার ঘটনা ঘটলেই ওই প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান ও জাহাজের চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।

শুধু তাই নয়, পালটা জবাব দেওয়ার জন্য ইরান এখন ‘একটির বদলে দুটি’ নীতি গ্রহণ করেছে। এর অর্থ হলো, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে তার বদলে শত্রুদের অন্তত দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পালটা হামলা চালাবে তেহরান। এই প্রত্যাঘাতের ক্ষেত্রে আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র দেশগুলির মধ্যে কোনো রকম পার্থক্য করা হবে না বলেও ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর, মঙ্গলবার ইরানে বোমাবর্ষণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে, ইরানে সম্ভবত আরও হামলা চালাবে আমেরিকা। তাঁর এই মন্তব্যের পর গতকাল রাত থেকে ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা শুরু করেছে তারা। এর মাঝেই গতকাল ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, সংঘাত নিরসনের উদ্দেশ্যে গত মাসে ইরানের সঙ্গে যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটতে নারাজ ইরান।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সম্পূর্ণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে দেশ। সমঝোতা স্মারকে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ইরান নিজেদের সুবিধাজনক ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রণালিটি আবার চালু করবে। তাই এর বাইরে আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া অন্য কোনো নতুন নিয়ম ইরান মেনে নেবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এর আগে জানিয়েছিল যে তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর পালটা জবাব হিসেবে গতকাল ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, তাদের এই হামলার নিশানায় ছিল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, সালমান বন্দর এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি।