পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্র ও উগ্রপন্থায় অর্থ জোগানোর অভিযোগে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১০টি রাজ্যের ২০টি স্থানে একযোগে মেগা অভিযান শুরু করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশের যৌথ উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহার, রাজস্থান, কর্ণাটক, গুজরাট, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যাপক তল্লাশি চলছে। বিশাখাপত্তনম শাখায় নথিভুক্ত একটি সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই দেশজুড়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে এনআইএ আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ মার্চ বিজয়ওয়াড়া পুলিশের হাতে মহম্মদ রহমতুল্লাহ শরিফ নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারির পর থেকেই এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হতে শুরু করে। এরপর এপ্রিলে এই মামলাতেই বিজয়ওয়াড়া থেকে মহম্মদ দানিশ ও মির্জা সোহেল বেগ, হায়দরাবাদ থেকে সৈয়দা বেগম এবং কর্ণাটকের বেল্লারি থেকে আবদুল সালামকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ভারতে বড়সড় নাশকতা চালানোর ছক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান গোয়েন্দারা। বিজয়ওয়াড়া টু টাউন থানায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, বিএনএস এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক কড়া ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যের মোট ১২ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে।
জেরায় এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, হ্যান্ডলার আল-হাকিম শুকুরের নির্দেশে ভারতে আল-কায়েদা ইনস (একিউআইএস) এবং আইএসআইএস-এর কার্যকলাপ সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছিল এই গোষ্ঠী। অভিযুক্তরা 'আল-মালিক ইসলামিক ইয়ুথ' নামে একটি সংগঠনও তৈরি করে।
তারা স্বীকার করেছে যে, আগে থেকেই তাদের মধ্যে জেহাদি প্রবণতা ছিল। এমনকি তারা দেশের যুবকদের মগজধোলাই করে আত্মঘাতী হামলায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টাও করছিল। এই বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই অভিযুক্তদের সম্ভাব্য ডেরাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এনআইএ আধিকারিকরা।
বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যওয়াড়ি বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দেয় তদন্তকারী দল। মূলত উত্তরপ্রদেশে পাঁচটি, অন্ধ্রপ্রদেশে চারটি, মহারাষ্ট্রে তিনটি, দিল্লিতে দুটি এবং বাংলা সহ বাকি রাজ্যগুলিতে একটি করে জায়গায় অভিযান চলছে।
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের মহল্লা ইন্টা রোডি এলাকায় প্রসাধনী ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির এবং তার দুই ভাই ফয়সাল ও বিলালের বাড়িতে বিশাখাপত্তনম থেকে যাওয়া এনআইএ-র একটি দল তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। হাওয়ালা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্ত এই তিন ভাইয়ের বাড়ি ঘিরে রেখেছে জোড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভেতরে টাকা গোনার জন্য মেশিনও আনা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকাটি সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ বা ভেতরের কাউকে বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ার ভিঞ্চিপেটা এলাকাতেও জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।