পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে আক্রমণের পর ইরানে হামলা চালালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার স্থানীয় সময় ভোররাত থেকে ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কিছু এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম।
এই সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোস্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার সম্পূর্ণ দায় ইরানের এলিট ফোর্স 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর' (আইআরজিসি)-এর।

সেন্টকম স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের এই ধরণের আগ্রাসী মনোভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক, অযৌক্তিক এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক মার্কিন কর্মকর্তার সূত্র ধরে জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি কাঠামোকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণের সিরিক শহরে পরপর সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে, যার মধ্যে ছয়টি আঘাত হেনেছে একটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই। এছাড়া বন্দর আব্বাস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই ইরানে সে দেশের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের রাষ্ট্রীয় আচার চলছিল। তাঁর মরদেহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘোরানো হচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অন্ত্যেষ্টি কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরাকে অবস্থান করছিলেন। তবে দেশে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া মাত্রই তিনি সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি তেহরানে ফিরে এসেছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালানো হয়।
আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে 'আল রেকায়াত' নামের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাঙ্কার কাতার থেকে ভারতের দিকে আসছিল। ওমানের লিমাহ উপকূল থেকে মাত্র আট নটিক্যাল মাইল দূরে ওমান উপসাগরে ড্রোন হামলার শিকার হয় জাহাজটি, যার ফলে সেটির ইঞ্জিন রুমে বিধ্বংসী আগুন ধরে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর পর ইরান ঘোষণা করে যে হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ পার হতে পারবে না। এই কূটনৈতিক ও সামরিক বাদানুবাদের জের ধরেই মঙ্গলবার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তার জবাবে বুধবার আমেরিকার এই পাল্টাপাল্টি যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে পুনরায় এক অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিল।