পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশে সমকামিতাকে একধরনের মানসিক অসুস্থতা এবং যৌনবিকৃতি হিসেবে দেখা হয়। যার ফলে সেই দেশগুলির পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা ইরান ও মিশরেও সমকামিতার পক্ষে কোনও সরকারী কিংবা সামাজিক স্বীকৃতি নেই। অথচ ভারতীয় সময় শনিবার সকালে সিয়াটলে বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ইরান-মিশর ম্যাচে সমকামী অধিকার আ¨োলনের বেশকিছ কর্মসূচী পালনের পরিকল্পনা করে ফেলে ফিফা। যা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান ও মিশর দুই দল। সিয়াটলে শুরু হতে চলা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ম্যাচের সঙ্গে সমকামী অধিকার সম্পর্কিত যে কোনও ধরনের কর্মকাণ্ড বা প্রচারের তীব্র বিরোধীতা করে তারা।
আরও পড়ুন:
সিয়াটল শহরটি ঐতিহাসিকভাবেই সমকামী অধিকার আন্দোলনের পক্ষের শহর হিসেবে পরিচিত হয়। কাকতালীয়ভাবে ইরান-মিশর ম্যাচের দিনই সেখানে ঐতিহ্যবাহী ‘প্রাইড প্যারেড’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেটা মাথায় রেখে প্রতিবারের মতো সিয়াটল শহরে সমকামী অধিকার আন্দোলনের কিছু কর্মসূচি ঠিক করে আয়োজকরা। ওই বিশেষদিনে সিয়াটলে বিশ্বকাপের ইরান-মিশর ম্যাচ পড়তেই ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও সেই বিতর্ককে পাত্তা না দিয়ে বিশ্বকাপের খেলার সূচি নির্ধারণের সময় ফিফা এই ম্যাচটিকে ‘প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
যা নিয়ে সেই সময় আরও জলঘোলা হয়।ইরান ও মিশর দুটিই মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায়, তাদের গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের জায়গা থেকেই এই আ¨োলন থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাইছে তারা। ইতিমধ্যে ইরান এবং মিশর উভয় দেশের ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচের সঙ্গে সমকামী অধিকার সম্পর্কিত যে কোনও ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে আপত্তি জানায়। এ ব্যাপারে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সিয়াটলের স্টেডিয়ামে সমকামী অধিকার সম্পর্কীত অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে আমরা ফিফাকে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছি। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, ম্যাচের দিনে স্টেডিয়ামের ভিতরে কিংবা বা ম্যাচের মধ্যে তাদের ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কোনও অনুষ্ঠান বা প্রচারের সঙ্গে আমরা যুক্ত থাকব না।
’ তাদের ওই মতামতকে সমর্থন জানিয়েছে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশনও।আরও পড়ুন:
ইরান ও মিশরের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে ফিফা অবশ্য এই ম্যাচের প্রতীকী গুরুত্ব অনেকটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ইরান-মিশর ম্যাচ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ‘প্রাইড ম্যাচ’ নয়। এটা বিশ্বকাপের আর পাঁচটা সাধারণ ম্যাচের মতো একটি ম্যাচ।’ তবে মাঠের ভিতরে সমকামী অধিকার আ¨োলনের বেশকিছু অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে ফিফা তাদের শক্ত অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ম্যাচের ভেন্যুর বাইরে পূর্বনির্ধারিত ‘প্রাইড’ কর্মসূচির নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যথানিয়মেই চলবে। এমনকি বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামের আচরণবিধি অনুযায়ী গ্যালারিতে রেনবো ফ্ল্যাগ (রংধনু পতাকা) বা সমকামী অধিকারের প্রতীকী চিহ্ন প্রদর্শনে ফিফা কাউকে বাধা দেবে না।