পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে তেহরান। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের ওই আকস্মিক হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরেই তেহরানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে ওয়াশিংটন। 

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং জর্ডনে হামলার যোগ্য জবাব দিতে খাস ইরানের মাটিতে পালটা অভিযান শুরু করেছে আমেরিকার সামরিক বাহিনী।


ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার এই প্রত্যাঘাতের জেরে দেশের বেশ কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর নিশানায় ছিল মূলত দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর শহর সিরিকের নিকটবর্তী এলাকা, হাজিয়াবাদ এবং কেশম দ্বীপ। তবে আমেরিকার এই গোলাবর্ষণে ইরানে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জর্ডনে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

 এই হামলার নিন্দা করে তিনি জানিয়েছেন, নিহত সেনাদের আত্মত্যাগ ওয়াশিংটনের সংকল্পকে আরও বেশি সুদৃঢ় করবে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।


অন্যদিকে, আমেরিকার এই অভিযানের পর হাত গুটিয়ে বসে নেই তেহরানও।

 ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। তিনি চরম বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইরান এবং তাদের সহযোগী শক্তিগুলি আমেরিকাকে এর উপযুক্ত শিক্ষা দেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে খামেনেই অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ইচ্ছেকৃতভাবে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সইয়ের বাস্তবে কোনও মূল্যই নেই। সব মিলিয়ে দুই দেশের এই পালটাপালটি আক্রমণ ও হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।