পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রত্যাশার চাপ না থাকলে একটা ম্যাচ কোন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে দেখিয়ে দিয়ে গেল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থানাধীকারি ম্যাচে ১০ গোলের রেকর্ড। ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করল ইংল্যান্ড। ম্যাচে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
আরও পড়ুন:
ম্যাচের প্রথমার্ধ যদি হয় ইংরেজদের শাসন। দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি ভীতি গ্রাস করেছিল ইংল্যান্ডকে। ফল প্রথমার্ধে ৪ গোলে এগিয়ে থেকেও ৪ গোল হজম। যদিও ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে বিশ্বকাপে ৬৬ বছরের ইতিহাসে সেরা সাফল্য এদিনই পেয়ে গেল ইংল্যান্ড।
আরও পড়ুন:
খেতাব জয়ের স্বপ্ন বিলীন হয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ফুটবলাররা। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, জুড বেলিংহামরা যেমন খেলতে চাননি। ফলে তাঁদের বাইরে রেখেই প্রথম একাদশ সাজাতে হয়েছিল কোচ টমাস টুখেলকে।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ দ্বিতীয় সারির রক্ষণ নিয়ে প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন। ফলে প্রথমার্ধেই ৪ গোল হজম।আরও পড়ুন:
এদিন শুরু থেকেই অন্য মেজাজে ইংল্যান্ড। তিন মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে গোল ডেকলান রাইসের। ১৮ মিনিটে হেডে এজেরি কনসার দ্বিতীয় গোল। বুকায়ো সাকাকে সামলাতে নাজেহাল অবস্থা হয় ফ্রান্স রক্ষণের। ৩৭ মিনিট ও সংযুক্তি সময়ের শুরুতে জোড়া গোল করে ৪-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন সাকা।
কিলিয়ান এমবাপেরও হয়তো মনে ছিল না, ইংল্যান্ডের জালে একবার বল ঢোকাতে পারলেই স্পর্শ করবেন মেসির বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে এমবাপে। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল। মেসিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন গোল্ডেন বুটের দিকে।
আরও পড়ুন:
অবশেষে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে এল সেই মহেন্দ্রক্ষণ। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে এমবাপের গোল। গোল্ডেন বুটের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এককভাবে বিশ্বকাপে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের (২২) মালিক। পেছনে ফেলে দিলেন লিওনেল মেসিকে (২১)। নাটকীয়ভাবে ফ্রান্সের ম্যাচে ফিরে আসায় ইংল্যান্ডকে হয়তো আবার হারের আতঙ্ক গ্রাস করেছিল। আর্জেন্টিনা ম্যাচের মতো ভুল না করে আরও আক্রমণাত্মক ইংল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার মাতো গাস্তো। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে গোল করে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক।
ইংল্যান্ডের ব্যবধান বেড়ে ৫-৩।আরও পড়ুন:
তখনও ম্যাচের চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স বাকি। গোলের উৎসব দেখে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকতে মন চায়নি জুড বেলিংহামের। ৭৮ মিনিটে এবেচেরি এজের জায়গায় তাঁকে মাঠে নামান টমাস টুখেল। গোলের খাতায় নাম লেখান বেলিংহামও। তাঁর আগে অবশ্য সংযুক্তি সময়ের ৬ মিনিটে উসমান ডেম্বেলের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করে ফেলে ফ্রান্স। তার ঠিক ২ মিনিট পরেই বেলিংহামের গোলে ৬-৪। ভেঙে গেল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলে জয়। সেদিন ফ্রান্স জিতেছিল, আর এদিন হার। কলঙ্কজনক অধ্যায়ে শেষ হল দিদিয়ের দেশঁ’র দেশের হয়ে কোচিং জীবন।