পুবের কলম ওয়েব: চার-চারবার বিশ্বকাপের আসরে। নকআউটে মাত্র একবারই খেলার সুযোগ। সেটা ১৯৩৪ সালে। যদিও সেই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ছিল না, গোটাটাই ছিল নকআউট। এক ম্যাচ স্থায়ী হয়েছিল মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান। প্রথম রাউন্ডেই হাঙ্গেরির কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায়। ৯২ বছর পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মিশর। এক শতকের সেই পুরানো হতাশার ইতিহাস বদলে দিয়ে এ দিন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও পৌঁছে গেল ‘দ্য ফারাওস’রা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তারা টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দেয়। 
সাতবারের আফ্রিকান নেশনস কাপের চ্যাম্পিয়ন মিশর। অথচ বিশ্বকাপের আসরে মাত্র ৪ বার খেলার সুযোগ। দীর্ঘদিন আগেই মিশরের গায়ে সেঁটে গেছে ‘অপূর্ণ সম্ভাবনার’ দেশ।

আগের ৩ আসরে একটা ম্যাচেও জয় আসেনি। এবারের বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে আক্ষেপ করছিলেন দলের অধিনায়ক মুহাম্মদ সালাহ। বলেছিলেন, ‘অবসর নেওয়ার আগে অন্তত বিশ্বকাপে একটা ম্যাচ জিততে পারি।’ স্বপ্ন পূরণ হয়েছে সালাহর, বদলে গেছে মিশরের সেই হতাশার গল্পও। ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্য চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে মিশরের ফুটবল ইতিহাসে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউটে এই প্রথম জয় তুলে নিলেন সালাহরা।  
মিশর দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারের চোট। খোদ অধিনায়ক মুহাম্মদ সালাহর মাঠে নামা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। যাবতীয় উদ্বেগ দূর করে পুরো ফিট না হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছিলেন সালাহ। কারণ, তিনি মাঠে থাকা মানেই বিপক্ষ রক্ষণের ওপর বাড়তি চাপ। গোটা ম্যাচে সেভাবে বল পায়ে জ্বলে উঠতে না পারলেও চাপে রেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্সকে। পুরোপুরি ফিট না থাকলেও ম্যাচজুড়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সতীর্থদের জন্য।
সালাহকে ঘিরে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন বাকিরা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই জয় টিম মিশরের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে শুরু করে মিশর। ১৩ মিনিটেই ইমান আশুরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। ফ্রিকিক থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে। মুহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শট অস্ট্রেলিয়ার এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি সেই অজি ডিফেন্ডাররা। করিম হাফেজ বল পেয়েই সেন্টার করেন। দুরন্ত হেডে বল জালে পাঠান ইমান আশুর। প্রথমার্ধের বাকি সময় ম্যাচে আধিপত্য দেখালেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মিশর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে চাপ বাড়াতে থাকে টিম অস্ট্রেলিয়া।
একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে ৫৫ মিনিটে তারা সমতায় ফেরে। এইডেন ও’নিলের ফ্রিকিক হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মুহাম্মদ হানি। চলতি বিশ্বকাপে এটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল। সমতায় ফেরার পর আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলে মিশর। শেষ দিকে একের পর এক সুযোগও তৈরি করে। ইনজুরি সময়ে রামি রাবিয়ার হেড অসাধারণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ। অতিরিক্ত সময়ে কোনও দল ঝুঁকি না নেওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়।
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শট নেওয়া হ্যারি শুটার বারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন। মিশরের মাহমুদ সাবের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। অজিদের হয়ে দ্বিতীয় শটে গোল করেন জ্যাকসন আরবিন, মিশরের হয়ে গোল করেন রামি রাবিয়া। তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করে অস্ট্রেলিয়াকে সমতায় ফেরালেও মুহাম্মদ সালাহ গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার লুকাস হেরিংটন চতুর্থ শট বারে মারেন। সেখানে আবদেল মাগিদের শট অস্ট্রেলিয়ার জালে জড়িয়ে যেতেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে প্রথমবার উঠে ইতিহাস গড়ল মিশর।