পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্বকাপের শুরু হওয়ার আগে থেকেই ফ্রান্সকে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে দেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভবিষ্যতবানী যে ভুল ছিল না, গ্রুপ লিগে প্রমাণ করে দিয়েছেন এমবাপ্পে, ডেম্বেলেরা। দুর্দান্ত ফর্মে থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে এসেছে দিদিয়ের দেশঁ,র দল। গ্রুপ লিগের তিনটি ম্যাচেই জয়। মাঠে ঝড় তুলেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলেরা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে জয়লাভ করেছে ফ্রান্স। এবার ৩২ দলের পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন। নকআউটে সুইডেনের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে ফ্রান্স।
আরও পড়ুন:
গ্রুপ লিগে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে যেভাবে দাপটের সঙ্গে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স, দিদিয়ের দেশঁ,র জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। শেষ চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত তিনটি করে গোল করেছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনও দলই টানা পাঁচ ম্যাচে তিনটি করে গোল করতে পারেনি। এমবাপ্পে, ওলিসে, ডেম্বেলেরা যেরকম ফর্মে রয়েছেন, ‘লে ব্লুজ’দের সামনে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করার সুযোগ, যদি সুইডেনের বিরুদ্ধে তিনটি গোল করতে পারে।
আরও পড়ুন:
কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান ডেম্বেলে গ্রুপ পর্বে চারটি করে গোল রয়েছে। এদের সঙ্গে রয়েছেন মাইকেল ওলিসও। ১৯৯৮ সালে দিদিয়ের দেশঁ,র নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। সেইবছর ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেরকম শক্তিশালী ছিল, এই বিশ্বকাপেও একইরকম শক্তিশালী।
ফলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোর নকআউটের স্বপ্ন দেখতেই পারে ফ্রান্স। এমবাপ্পে ও ডেম্বেলে জুটি একসঙ্গে যথেষ্ট ভাল খেলেছে। বিশ্বকাপে দুজনে একে ওপরের সহায়তায় পাঁচটি গোল করেছেন। ডেম্বেলেকে দুটি গোলে সহায়তা করেছেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে, ডেম্বেলে এমবাপ্পের তিনটি গোলে সহায়তা করেছেন। আক্রমণে এই দুজনের সঙ্গে মাইকেল ওলিস এবং ডেসিরে ডুয়ে রয়েছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে থামানোই বড় চ্যালেঞ্জ সুইডেনের রক্ষণভাগের সামনে।তবে সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার আশা করতেই পারেন, তাঁর দলের ফুটবলাররা ফ্রান্স রক্ষণভাগে পাল্টা আক্রমণে তুলে অঘটন ঘটাতে পারবেন।
গ্রুপ পর্বে নজর কেড়েছেন ভিক্টর গিওকেরেস। তিনিই সবথেকে বেশি সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এছাড়াও রয়েছেন আলেকজান্ডার ইসাক, ইয়াসিন আয়ারি, অ্যান্থনি এলাঙ্গারা। প্রত্যেকেই গ্রুপ পর্বে ভাল পারফরমেন্স করেছেন। হল্যান্ড ও জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচেই গোল করেছেন এলাঙ্গা। ভিক্টর গিওকেরেস এবং আলেকজান্ডার ইসাক জুটি যে কোনও দলকে বিপদে ফেলতে পারে। কিন্তু সুইডেনের রক্ষণ যথেষ্ট নড়বড়ে। তবে সুইডেনের বিপজ্জনক আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে ফ্রান্সকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।