মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সংঘাত কমানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশই আপাতত একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা বন্ধ রাখতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

মার্কিন প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা নতুন করে আলোচনায় বসবেন। বৈঠকের মূল বিষয় হবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উপায় খুঁজে বের করা।

এর আগে গত ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায় ওয়াশিংটন ও তেহরান।

সেই চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলে যায় এবং দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের আশা দেখা দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” আরেক কর্মকর্তা জানান, আলোচনা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষই আপাতত সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াতে চায় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আগ্রহী।

একই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনও।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ আলোচনার স্বার্থে দুই দেশই সংঘাত কমানোর পথে হাঁটছে এবং মঙ্গলবার দোহায় নতুন বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।

প্রাথমিক সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মাঝেও কঠোর অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান নতুন করে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।