ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি তদন্তকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সাবেক শীর্ষ দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহের বাড়িতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধারের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।
গত ৮ জুলাই জাকার্তার একটি অভিজাত এলাকায় পরিচালিত পুলিশি অভিযানে ফেব্রির বাসা থেকে ৭৪ কেজি সোনার বার এবং প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার নগদ জব্দ করা হয়। ফেব্রি, যিনি বিশেষ অপরাধবিষয়ক সাবেক উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, বাড়িটির মালিকানা স্বীকার করলেও উদ্ধার হওয়া সোনা ও অর্থের সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।
এই অভিযানের পরদিন ভোররাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফেব্রির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সশস্ত্র সেনাসদস্যদের কয়েকটি দল পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেয়। যদিও কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং পরে তারা সরে যায়, তবুও ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
সংকট নিরসনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো। তাঁর উদ্যোগে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাধারণ পুলিশের পরিবর্তে তাঁর নিজ সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর শাসনামলে পুলিশ সেনাবাহিনীর অধীনেই ছিল। ১৯৯৮ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দুই বাহিনীর মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। তবে এত উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন প্রকাশ্য টানাপোড়েন বিরল।