ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আরও সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্ফাহান, নাতাঞ্জ ও ফার্দোর পারমাণবিক স্থাপনায় থাকা সেন্ট্রিফিউজসহ বিভিন্ন পরিবহনযোগ্য সরঞ্জাম ধাপে ধাপে পিকাক্স পর্বতের পাদদেশে নির্মিত একটি ভূগর্ভস্থ গবেষণাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গবেষণাকেন্দ্রটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে এবং এর ওপর রয়েছে পুরু গ্রানাইট শিলার স্তর। ফলে সম্ভাব্য বিমান হামলা বা শক্তিশালী বোমার আঘাত থেকেও এটি সুরক্ষিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর নাতাঞ্জের কাছে এই স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বছরের শেষ নাগাদ তা সম্পন্ন হয়।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, ২০২১ সালে ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পিকাক্স পর্বত এলাকায় স্থানান্তরের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। তবে এরপর এ বিষয়ে তেহরান আর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য আইএইএকে দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে পিকাক্স পর্বতের স্থাপনাও মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরান-সংক্রান্ত চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিচালনা এবং সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত অর্থায়ন জরুরি।

একই সময়ে রিপাবলিকানরা ৯৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থায়ন প্যাকেজ অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে সামরিক খাতে ৬০ বিলিয়ন ডলার, জাতীয় নিরাপত্তা খাতে ১২ বিলিয়ন ডলার, কৃষি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁর দাবি, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে ব্যয় ও সংঘাত দুটোই বাড়ছে।

এদিকে পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে আরও তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ায় জুলাইয়ের শুরু থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক সেনাসদস্য।