ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে দেশটির বিমানবাহিনীর সামরিক ড্রোন ব্যবহার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে চলছে ব্যাপক অভিযান। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ, আর প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৬ জন।

সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে রাজধানী কলম্বোতে। জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট ইতোমধ্যে ১৬২টি এলাকাকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের নির্দেশে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনের মাধ্যমে ভবনের ছাদ, খোলা জায়গা এবং বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লার্ভা খুঁজে বের করতে পুলিশকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো ডেঙ্গু ভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডিইএনভি-২ ধরন। বর্তমানে আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশের শরীরে এই ধরন শনাক্ত হয়েছে।

শুধু জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশটিতে ২১ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা ও বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং চিকিৎসক-নার্সদের কর্মঘণ্টাও বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবে ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রায় ১১ হাজার মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় ৪ হাজারের বেশি স্থাপনার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশা, আগস্টে বর্ষার তীব্রতা কমলে সংক্রমণও কিছুটা কমবে। তবে বছরের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত বাড়লে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।