বিপুল শঙ্কর বসু : সর্পদংশনের পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল এক গৃহবধূর জীবনে। বিষক্রিয়ার জেরে মৃত্যু হয়েছে রায়গঞ্জের মারাইকুড়া দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা প্রতিমা দে-র। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি, বিজ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসার যুগেও সর্পদংশনের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কেন এখনও বহু মানুষ ওঝার ওপর নির্ভর করেন, সেই প্রশ্নও ফের সামনে উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ঠাকুরের আসনে সন্ধ্যা প্রদীপ দেওয়ার সময় আচমকাই একটি সাপ প্রতিমা দেবীকে কামড়ায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক ও তুকতাক করার পর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিমা দেবীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতার স্বামী হারাধন দে জানান, সাপের কামড়ের পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ওঝার পরামর্শে ঝাড়ফুঁকের পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল।