পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে আজ শনিবার যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের ঠিক আগের রাতেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে গণপিটুনির মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ। শুক্রবার রাতে ধৃত ওই তিন অভিযুক্তকে শনিবার আদালতে পেশ করা হবে।

গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে বারো বছরের এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন ওই যুবক নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বের করে মারধর করা হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্পষ্ট জানান যে, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নিহতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দেন।

গত মঙ্গলবার বারুইপুরের পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে নির্যাতিতা নাবালিকা এবং নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

দোষীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, নাবালিকার পরিবারের দাবি মেনে সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সেই ফাঁড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে নির্যাতিতার বাড়িতে যাবেন, সেখান থেকে যাবেন ইন্দ্রজিতের বাড়িতে। এরপর সদ্য নির্মিত পুলিশ ফাঁড়িটির উদ্বোধন করে তিনি কলকাতায় ফিরবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই নিহত যুবকের বাড়ি মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। সন্তানহারা ইন্দ্রজিতের মা আক্ষেপ করে জানান যে, তাঁর জলজ্যান্ত ও নির্দোষ ছেলেকে অকারণে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে।
দোষীদের শাস্তির বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। রাজ্য সরকার এবং পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, বারুইপুরের এই ঘটনার জেরে আরও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার দিন পুলিশকে মারধর এবং রেল অবরোধের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযুক্তরাও ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে সে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেই সময়েই পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার এনকাউন্টারের ওই জায়গা থেকে ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।