উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : তুমুল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ঝড় বৃষ্টির রাতে সুন্দরবনের খালে আটকে পড়ল ২জন মৎস্যজীবী। খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২ জন মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করলো বন দফতরের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে রায়দিঘি রেঞ্জের বণি ক্যাম্পের কাছে। এই ঘটনায় বন দফতরের কর্মীদের প্রশংসা করেছেন সকলেই।জানা গিয়েছে,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বণি ক্যাম্পের কাছে লক্ষ্মীর খালের মৎস্যজীবীদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ফলে অসহায় হয়ে পড়েন মৎস্যজীবীরা। এদিকে সন্ধ্যা নেমে আসায় মৎস্যজীবীরা দিশেহারা হয়ে পড়ছিলেন।

চারিদিকে সুন্দরবনের ঘন জঙ্গল। বাঘ-কুমীরের ভয়, তার মাঝেই চলছে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। এই পরিস্থিতির মধ্যে তাঁরা গ্রামে যোগাযোগ করেন। কিন্তু গ্রাম থেকে সেখানে সেই সময় যাওয়া সম্ভব ছিল না।এরপর মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামবাসীরা। সেখান থেকে খবর যায় বন দফতরে।বন দফতরের কর্মীরা রাতের আঁধারেও উদ্ধার কাজে লেগে পড়েন।
দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আনা হয় ক্যাম্পে। রাতে তাদের সেখানেই খাবার বন্দোবস্ত করা হয়। বন দফতরের কর্মীদের এই কাজে খুশি সকলেই। জানা গিয়েছে,ওই ২ জন মৎস্যজীবী হল সঞ্জয় হালদার ও তাপস কয়াল, কুলতলি বিধানসভার মৈপীঠ  বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় বাড়ি তাদের। শুক্রবার সকালেই তাদের আনতে গ্রামবাসীরা রওনা দেয়। রায়দিঘি রেঞ্জের বন দফতরের কর্মীদের এই প্রয়াসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। সেই সঙ্গে গ্রাম বাসীরা ওই মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, আমাদের এলাকার বিপদে আপদে এপিডিআরের সদস্যদের আমরা পাশে পাই। সুন্দরবনের গভীর অরণ্য থেকে উদ্ধারের রোমহর্ষক এই কাহিনি এখন ঘুরছে লোকের মুখে মুখে।আর উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীরাও বন দফতরের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সারারাতে তাদের কোনও অসুবিধা হয়নি বলে তাঁরা জানিয়েছেন। আর এ ব্যাপারে এপিডিআরের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ বলেন, আমরা মানুষের পাশে থেকে কাজ করে চলি।আর মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকা তো একটা মানুষের কাজের মধ্যে পড়ে।আর এ ব্যাপারে বন দফতরের রায়দীঘি রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন,আমরা আমরা দায়িত্ব টুকু পালন করেছি মাত্র।