বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় তারা সহজেই ডায়রিয়া ও অন্যান্য পেটের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। তাই বর্ষায় শিশুর খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কয়েক ধরনের খাবার এ সময় এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।


আধা সেদ্ধ খাবার

ডিম, মুরগির মাংস বা অন্যান্য আমিষজাত খাবার ভালোভাবে রান্না না হলে ক্ষতিকর জীবাণু থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

তাই এসব খাবার সম্পূর্ণ সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করেই শিশুকে খাওয়ানো উচিত।

সামুদ্রিক মাছ

বর্ষাকালে সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়িতে দূষণ বা ক্ষতিকর উপাদান থাকার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এ সময় শিশুকে টাটকা ও নিরাপদ উৎসের মাছ খাওয়ানোই ভালো।

রাস্তার কাটা ফল ও শরবত

খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল বা শরবতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকতে পারে, যা ডায়রিয়া, টাইফয়েড বা জন্ডিসের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

কোমল পানীয়

কার্বোনেটেড বা কোমল পানীয় শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা অতিরিক্ত চিনি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার

অনেকক্ষণ সংরক্ষিত ভাত, ডাল, রুটি বা অন্যান্য খাবারে জীবাণু জন্মাতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা খাবার শিশুকে না দেওয়াই ভালো।

কাঁচা সালাদ

কাঁচা শাকসবজি ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে তাতে জীবাণু বা পরজীবী থাকতে পারে।

বর্ষায় কাঁচা সালাদের পরিবর্তে সেদ্ধ সবজি বা স্যুপ বেশি নিরাপদ।

প্যাকেটজাত খাবার

চিপস, চকোলেট, সসেজ, সালামি ও অন্যান্য অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। এর পরিবর্তে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর ও তাজা খাবার খাওয়ানো উচিত।

শিশুর সুস্থতায় আরও যা জরুরি

শুধু খাবার নয়, বর্ষায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।